নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেল কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারেরবিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে স্মরণীয় এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে জেসি মার্শের দল। কানাডার হয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে দলের বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই কাতারের ওপর চেপে বসে কানাডা। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে স্বাগতিকরা। সেই চাপের ফল আসে ২৮তম মিনিটে। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক সুযোগে গোল করে কানাডাকে এগিয়ে দেন সাইল লারিন।
প্রথম গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কানাডা। ৩৩তম মিনিটে তাজন বুকানানের শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। কয়েক মিনিট পর বুকানানকে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করায় কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল করেন ডেভিড। লারিনের হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে জালে বল জড়িয়ে দেন কানাডার এই তারকা ফরোয়ার্ড। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা। ৫১তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর ট্যাকলে গুরুতর চোট পান ইসমাইল কোনে। তার বাঁ পায়ের নিচের অংশ অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যায়। ভিডিও রিভিউয়ের পর মাদিবোর হলুদ কার্ড লাল কার্ডে রূপান্তরিত হয় এবং কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হয়।
স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ার সময় কোনেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় পুরো স্টেডিয়াম। দর্শকদের সমর্থনের জবাবে হাত নেড়ে সাড়া দেন কানাডার এই মিডফিল্ডার।
কোনের পরিবর্তে মাঠে নেমে ৬৪তম মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন আহত সতীর্থকে। এরপর ৭৫তম মিনিটে জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের শট নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন কাতারের মোহাম্মদ আল মান্নাই, যা ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় ৫-০ তে।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড। একই সঙ্গে কানাডার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জয় পেল কানাডা। পাশাপাশি গোল ব্যবধানেও বড় সুবিধা অর্জন করল দলটি।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন কানাডার ২৬ সদস্যের পুরো স্কোয়াড, কারণ তারাই বিশ্বকাপে জয় পাওয়া প্রথম কানাডিয়ান পুরুষ দল।
ইবিটাইমস/এনএল




















