শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পাসে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক দিনব্যাপী সংবেদনশীলতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার আলোকে আয়োজিত হয়।
কর্মশালার শুরুতে এক বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ। র্যালিটি ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ চিকিৎসক ও ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ-এর পরিচালক এবং খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ-এর ভাইস-প্রিন্সিপাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একেএম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ড-ভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার, পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করার গুরুত্ব এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।
একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এএমআর কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে মেডিকেল ও ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ২৫টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণ, প্রতিরোধ, সঠিক প্রেসক্রিপশন পদ্ধতি এবং জাতীয় নীতিমালা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয়।
এছাড়া আয়োজন করা হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার। বিতর্কের বিষয় ছিল—“অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় দায়িত্বশীল প্রেসক্রিপশন পদ্ধতি আইনি প্রয়োগের চেয়ে অধিক কার্যকর।” পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য তুলে ধরেন, যা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে।
বিকেলে অনুষ্ঠিত টেকনিক্যাল সেশনে মানব ও পশুস্বাস্থ্যে এএমআর পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে ‘কলিস্টিন’ ও ‘মেরোপেনেম’ শপথ পাঠের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস










