জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলা-চরফ্যাশন সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দ্রুতগতির সিএনজি চালিত অটোরিকশার সাথে ঘটছে দুর্ঘটনা। যার প্রধান কারণ হিসেবে অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং প্রতিযোগিতা, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, ইউটার্ন করাকে দায়ী করছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ। প্রায় প্রতিদিনই সড়কের কোথাও না কোথাও ঘটছে ছোট-বড় অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনায় অকালে ঝরছে মানুষের প্রাণ। তবুও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে নেই ধীরে সুস্থে চলার মনমানসিকতা। সিএনজি চালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনা এখন একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে মনে করেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের অনিয়ন্ত্রিত ড্রাইভিং এবং অকারণে ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, যার ফলে যাত্রীসহ পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। দুর্ঘটনায় অনেকে পঙ্গু হয়ে চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকার হাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা – ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৩ আহত ২ জন। ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৌদ্দের পোল এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ আহত ৩। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলার উপজেলার বুড়ির মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজিতে মায়ের কোলে থাকা চার মাস বয়সি আব্দুল্লাহ নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া শিশুর মাসহ আরও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই মহাসড়কে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সচেতনমহলের দাবি অধিকাংশ সিএনজি চালিত অটোরিকশার ড্রাইভারের নেই বৈধ কাগজপত্র। তারা আগে বিভিন্ন পেশায় (কৃষি ও দিনমজুর) নিয়োজিত ছিলো। এখন তারা হঠাৎ করে সিএনজি ভাড়া করে ও অনেকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পুরাতন সিএনজি চালিত অটোরিকশা ক্রয় করে ভোলা-চরফ্যাশনের হাইওয়ে রোডে চালাচ্ছে। ভোলা-চরফ্যাশনের প্রশস্ত রাস্তা দেখে তারা আনন্দে বেপরোয়া গতিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালায়। ড্রাইভারগণ অনেক সময় প্রতিযোগিতা করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালায়। এছাড়া প্রত্যেকটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার সামনে ড্রাইভারসহ তিন জন এবং পেছনে ৩ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সামনে ড্রাইভার ও দুই পাশে দুইজন যাত্রী নিয়ে স্টিয়ারিং (হ্যান্ডেল বার) গুড়াইতে অনেক কস্ট হয়। তারপরও তারা এভাবেই চলছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই।
লালমোহন থেকে ইলিশা ঘাটে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাওয়া যাত্রী ইকবাল, জাহিদ ও মিরাজ বলেন, সকাল ৮টায় লালমোহন থানার মোড় থেকে আমরা তিন জন পিছনে এবং সামনে অন্য দুইজন যাত্রীসহ রওয়ানা হই। ড্রাইভার আমাদেরকে বলেছে যেতে একঘণ্টা লাগবে এবং আমাদেরকে ৯টার লঞ্চ ধরিয়ে দিবে। সে অনুযায়ী আমরা যাত্রা করি। কিন্তু কিছুক্ষণ যাওয়ার পর ড্রাইভার এমন জোরে চালানো শুরু করেছে যে প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছে সিএনজি উলটে যাচ্ছে। আমরা বারবার ড্রাইভারকে আস্তে আস্তে চালাতে বললেও সে কিছুসময় আস্তে চালানোর পর আবার জোরে চালিয়ে আমাদেরকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেন।
সিএনজি চালিত অটোরিকশার ড্রাইভার কাবির হোসেনকে দ্রুত গতিতে চালানোর কারণ জিজ্ঞাসা করেল তিনি বলেন, অদক্ষ ড্রাইভারের কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। সবাই শুধু ড্রাইভারের দোষ দেয় এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। অনেক সময় যাত্রীরা খুব তাড়া করে দ্রুত চালাতে। এছাড়া দুর্ঘটনা রোধের জন্য ড্রাইভারদের মনমানসিকতা ভালো রাখতে হবে।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ভোলা জেলা দক্ষিণ জোনের লালমোহন সার্কেলের সার্জেন্ট মাখম লাল জানান, অবৈধ হাটবাজার, সড়কের পাশে অবৈধ ফুটপাত, গণপরিবহণের বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, আইন ভেঙে ইউটার্ন করা, নির্দেশনা না মেনে যানবাহন পরিচালনা করাসহ নানা কারণে সড়ক, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে পরিবহন মালিক- শ্রমিকদের যেমন সচেতন হতে হবে, সেইসঙ্গে জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। চালকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং মানসিক চাপ নিয়ে যেন গাড়ি চালাতে না হয়, সেজন্য মালিক এবং চালক সংগঠনগুলোকে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মানুষকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, দুর্ঘটনার ধরন পর্যালোচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া, এমনকি চালক ও যাত্রীদের মানসিকতার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে চলেছি। সিএনজির চালকগণকে বেপোয়ারা গতিতে গাড়ি না চালানোর জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস





















