ভিয়েনা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইল-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে গেলেন জামায়াত প্রার্থী ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের মশারি প্রদান ঝালকাঠি ৩ দিনব্যাপী শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু ঝালকাঠিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ম্যানচেস্টারে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চার বাংলাদেশী নিহত টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ, বাংলাদেশির পা বিচ্ছিন্ন সিলেটকে ১১৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে রংপুর মাদুরোকে উৎখাত করার পর কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা চীনের গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি

খাল–বিলহীন খিলগাতীতে সাড়ে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ নির্মাণ, প্রশ্ন স্থানীয়দের

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০৬ সময় দেখুন

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের খিলগাতী গ্রামে খাল–বিল বা কোনো জলাশয় না থাকলেও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, খিলগাতী এলাকায় ৩৪ দশমিক ৮৮ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড। ইতোমধ্যে পাইলিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের প্রস্তুতি চলছে। ব্রিজের দুপাশে রয়েছে বসতবাড়ি। আঞ্চলিক সড়কেও যান চলাচলে কোনো ব্যাঘাত নেই। এলাকাজুড়ে দৃশ্যমান কোনো নদী–নালা বা খালও নেই।
স্থানীয় পারভেজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “যেখানে ব্রিজ প্রয়োজন সেখানে হচ্ছে না, আর যেখানে কোনো দরকার নেই সেখানে কোটি টাকার ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে।” খিলগাতীর আবুল হোসেনের দাবি, “এ জায়গায় কখনো খাল ছিল না। তাই ব্রিজ নির্মাণের যৌক্তিকতা নেই।” তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
অটোচালক রাকিব খান বলেন, “ব্রিজ তৈরির মতো পানি প্রবাহের চ্যানেল নেই। দুই পাশেই বাড়িঘর ও সড়ক।” অনেকেই ধারণা করছেন, প্রভাবশালী কারো সুপারিশে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে।
তবে সওজের ব্যাখ্যা ভিন্ন। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী বলেন, “এ স্থানে পূর্বে ৩৩ মিটার দীর্ঘ একটি বেইলি ব্রিজ ছিল, যা সরু ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। নিয়মিত মেরামত ও যানজটের কারণে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানান, দখল ও ভরাটের কারণে চ্যানেলের প্রাকৃতিক প্রবাহ কমে গেছে। উজানের দিকে অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এজন্য সওজ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চ্যানেল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে, প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ অব্যাহত থাকায় প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Tag :
জনপ্রিয়

টাঙ্গাইল-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে গেলেন জামায়াত প্রার্থী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

খাল–বিলহীন খিলগাতীতে সাড়ে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ নির্মাণ, প্রশ্ন স্থানীয়দের

আপডেটের সময় ১১:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের খিলগাতী গ্রামে খাল–বিল বা কোনো জলাশয় না থাকলেও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, খিলগাতী এলাকায় ৩৪ দশমিক ৮৮ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড। ইতোমধ্যে পাইলিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের প্রস্তুতি চলছে। ব্রিজের দুপাশে রয়েছে বসতবাড়ি। আঞ্চলিক সড়কেও যান চলাচলে কোনো ব্যাঘাত নেই। এলাকাজুড়ে দৃশ্যমান কোনো নদী–নালা বা খালও নেই।
স্থানীয় পারভেজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “যেখানে ব্রিজ প্রয়োজন সেখানে হচ্ছে না, আর যেখানে কোনো দরকার নেই সেখানে কোটি টাকার ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে।” খিলগাতীর আবুল হোসেনের দাবি, “এ জায়গায় কখনো খাল ছিল না। তাই ব্রিজ নির্মাণের যৌক্তিকতা নেই।” তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
অটোচালক রাকিব খান বলেন, “ব্রিজ তৈরির মতো পানি প্রবাহের চ্যানেল নেই। দুই পাশেই বাড়িঘর ও সড়ক।” অনেকেই ধারণা করছেন, প্রভাবশালী কারো সুপারিশে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে।
তবে সওজের ব্যাখ্যা ভিন্ন। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী বলেন, “এ স্থানে পূর্বে ৩৩ মিটার দীর্ঘ একটি বেইলি ব্রিজ ছিল, যা সরু ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। নিয়মিত মেরামত ও যানজটের কারণে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানান, দখল ও ভরাটের কারণে চ্যানেলের প্রাকৃতিক প্রবাহ কমে গেছে। উজানের দিকে অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এজন্য সওজ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চ্যানেল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে, প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ অব্যাহত থাকায় প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস