ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণার পর, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সায়ার এই পদক্ষেপকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন
ইবিটাইমস ডেস্কঃ বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় যে কোনও দেশের পক্ষ থেকে একটি কাল্পনিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেওয়া সন্ত্রাসের জন্য পুরস্কার এবং হামাসকে উৎসাহিত করার শামিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরণের পদক্ষেপ আমাদের অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে না—বরং সেগুলোকে আরও দূরে সরিয়ে দেবে।’
ফ্রান্স যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, তবে এটি হবে জাতিসংঘের স্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম সদস্য দেশ যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে।
ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পরও দেশটি তার সেই নীতি ধরে রেখেছে।
প্যারিসের এই অবস্থান ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হতে পারে। ইসরায়েল মনে করে, এখনই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের আগেই এমন একটি পদক্ষেপ যা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
২০২৩ সালে ফ্রান্স দেশে সব প্রো-ফিলিস্তিন বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করলেও, পরবর্তীতে কিছু বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলে সেটি দেশটির আগের অবস্থান থেকেও একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য যে,এর আগে ফ্রান্স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপি বুধবার (৯ এপ্রিল) জানায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র
হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স। জুনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কনফারেন্সে ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে ফ্রান্স।
এএফপি আরও জানায়,দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স-৫ টেলিভিশনকে বলেছেন, “আমাদের অবশ্যই (ফিলিস্তিনকে) স্বীকৃতির দিকে যেতে হবে এবং এটি আমরা কয়েক মাসের মধ্যে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো জুনে সৌদি আরবের সঙ্গে জাতিসংঘের কনফারেন্সে নেতৃত্ব দেওয়া। যেখানে আমরা একাধিক পার্টির সঙ্গে ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারব।”
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, “আমি এটি করব। কারণ আমি মনে করি একটি সময় এটি সঠিক হবে এবং আমি একটি যৌথ গতিশীলতাতে যুক্ত হতে চাই, যেটিতে যারা ফিলিস্তিনিকে সমর্থন করেন তারা এর বদলে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবেন। যেটি তাদের অনেকেই করেন না।”
এদিকে ফ্রান্সের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সেন আঘাবেকিয়ান শাহিন। তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ফিলিস্তিনকে ফ্রান্সের স্বীকৃতি ‘ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষা এবং দ্বিরাষ্ট্র নীতির দিকে একটি সঠিক পদক্ষেপ হবে।’
ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মতামত দিচ্ছে। তবে তারা বিষয়টিতে এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবেই সমর্থন জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় তাহলে এটি তাদের পররাষ্ট্র নীতির বড় পরিবর্তন হবে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফ্রান্স ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দিলে ক্ষুব্ধ হতে পারে দখলদার ইসরায়েল। কারণ তারা দাবি করছে, এখনই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত হবে অপরিপক্ব।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর