মায়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৪, ব্যাংককে এখনও নিখোঁজ ৮১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন মায়ানমারের (সাবেক বার্মা) মান্দালয়ে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাজধানী নেপিদোতে (সাবেক রেন্গুন), সেখানে অন্তত ৯৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া, মান্দালয়ে ৩০ এবং সাগায় ১৮ জনের মৃত্যুর কথা জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৩২ জন। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স নিহত ও আহতের তথ্য জানিয়েছে। অপরদিকে, মিয়ানমারের পার্শ্ববর্তী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নির্মাণাধীন একটি ৩০ তলা ভবন ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮১ জন নিখোঁজ আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের কাছে ৭ দশমিক ৭ তীব্রতার ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রায় ১১ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প– পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনামেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়,ব্যাংককে নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবন ধসের সময় ভবনটিতে প্রায় ৩২০ জন শ্রমিক ছিলেন। যার মধ্যে ২০ জন লিফটের ফাঁকায় আটকা পড়েছেন। সেখানে সেখানে কতজন মারা গেছেন তা জানানো হয়নি। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ঘটনাস্থলে একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, ভূমিকম্পের পর ব্যাংকক ও মিয়ানমারের কিছু অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সহায়তার জন্য বিশ্বের ‘যেকোনো দেশ ও সংস্থাকে’ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রয়াত্ত সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্রিটিশ আমলে তৈরি সাগাইং সেতু ভেঙে গেছে। এটি মিয়ানমারের মান্দালয় ও সাগাইং অঞ্চলে ইরাবতী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছিল।

ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মান্দালয় এবং রাজধানী নেপিদোসহ দেশটির মধ্যঞ্চলের কয়েকটি অংশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে জান্তা সরকার। এ ছাড়া সাগাইং, মান্দালয়, বাগো এবং ম্যাগওয়ে অঞ্চলের পাশাপাশি পূর্ব শান রাজ্যেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মিয়ানমারে ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাস্তাঘাট ফাটল দেখা গেছে এবং ভবনের টুকরো খসে পড়েছে।

এ দিকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পায়োংতার্ন সিনাওয়াত্রা ‘তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যাংকককে জরুরি অঞ্চল ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশব্যাপী প্রদেশগুলোকে পরিস্থিতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে জনগণকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়।’

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »