লালমোহনে খাল দখলদারদের সুবিধা দিতে খনন কাজ বন্ধ!

জাহিদুল দুলাল, ভোলা : ভোলার লালমোহনে অবৈধভাবে খালের দখলদারদের সুবিধা দিতে খনন কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মানুযায়ী খাল খনন না করে দায়সারা ভাবে কাজ করার অভিযোগের পর এবার প্রভাবশালী দখলদারদের সুবিধা দিতে কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে লালমোহন পৌরসভার প্রায় ১.৫ কিলোমিটারে। লালমোহন হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খালটি কাটা শুরু করে এখন বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার।
অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারেরা খাল দখল করে ঘর নির্মাণ করে রেখেছে। খাল খনন করতে গেলে ওইসকল ভবন/ঘর ভাঙা লাগবে, তাই দখলদারদের বাঁচাতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে একটি চক্র খাল দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা উত্তোলন করে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, হাসপাতালের আগে আমাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে খাল খনন করেছে। কিন্তু পৌরসভার ভিতরে হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় খাল নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। দখলদারদের ভবন/ঘর বাঁচাতে ভেকু দিয়ে কোনো রকম নিচ দিয়ে কাটা শুরু করে। দেখা গেছে, কিছু দখলদাররা তাদের ঘরবাড়ি যেটুকু ভেঙেছেন, এখন আর ভাঙছেন না। অপরদিকে খাল খনন বন্ধ করে দিয়ে ভেকু মেশিন উঠিয়ে নিয়ে গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সুযোগে যারা যেটুকু ভেঙেছেন, তারা আবার সেটুকু মেরামত করে নিচ্ছেন।

গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি মহল খালপাড়ের দখলকৃত ঘরবাড়ি না ভাঙার ব্যাপারে তদবির ও দখলদারদের সাথে অবৈধ লেনদেন করেছেন।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, লালমোহনে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। যার শুরু ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রাম থেকে লালমোহন লঞ্চঘাট পর্যন্ত। খাল অনুযায়ী মুখে কোথাও ৬০ ফিট, কোথাও ৩৫ ফিট খনন করার কথা।
তবে লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত মুখে ৬০ ফিট খনন কথা। খাল খননের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল ইসলাম। মোট বরাদ্দ ১৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৬০ টাকা। খনন শুরু জানুয়ারি ২০২৪ ইং শেষ এপ্রিল ২০২৫ ইং।
লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল কাটা শুরু করে বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্তব্যরত এসও প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাল খনন করছি। হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন শুরু হলে খালপাড়ের বাসিন্দারা তাদের রেকর্ডিয় জমি দাবি করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য এখানে খনন বন্ধ রাখতে। তিনি কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দিবেন। তাই এখানের কাজ বন্ধ রেখে অন্য জায়গায় কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে তিনি জানান, মোট কাজের ৭০% সমাপ্ত হয়েছে।

পৌরসভার অংশের কাজ বন্ধের ব্যাপারে দায়িত্বরত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কার্তিক বাবু বলেন, মাটি নরমের কারণে পৌরসভা অংশের খাল খনন বন্ধ রয়েছে। আমরা অন্য জায়গায় কাজ করছি। এখানকার মাটি শুকালে আবার কাটা হবে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, খাল খনন বন্ধের বিষয়ে আমাকে অফিসিয়াল কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি খাল খনন বন্ধের বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনাই। খাল খনন বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। দ্রুত বর্ষার আগেই খান খনন করা উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।      
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভা অংশে রাফ কেটে গেছে এরপর ফাইনাল কাটা হবে। অবৈধ কোন স্থপনা থাকলে উচ্ছেদ করা হবে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »