ঝালকাঠিতে আমড়ার চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে

জেলায় এবছর ৬০২ হেক্টরে আমড়ার চাষ থেকে কৃষকরা ২০ কোটি টাকার ফলন পাচ্ছে 

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মৌসুম শুরুতেই জমে উঠেছে ঝালকাঠির আমড়ার বাজার। জলে আর আর কূলে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ। বলিশালের আমড়া নামে দেশব্যাপী সরবরাহ হওয়া এই পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ফলটির প্রধান যোগাদাতা দক্ষিন অঞ্চলের ঝালকাঠিসহ জেলাগুলি। এই অঞ্চলে সর্বনিম্ন এক বিঘা থেকে ২৫-৩০ বিঘা পর্যন্ত আমড়া একক আমড়ার বাগান রয়েছে। এই এলাকার বড় চাষিরা বানিজ্যিকভাবেই আমড়ার চাষ করে থাকে। এই চাষাবাদে তেমন কোন বাড়তি খরচ নেই এবং একারণে আমড়া চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক চাষিরাই এখন আমড়া চাষ সম্প্রসারণ করছে।

হাট-বাজার থেকে খুচরা ও পাইকারি আমড়া ক্রেতারা আমড়া কিনে জেলার বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের পর্তা ও সুবিধা অনুযায়ী নৌ অথবা সড়ক পথে আমড়া সরবরাহ করছে। এই ফলটি ২০-২৫দিন সংরক্ষন করে রাখা যায়। দক্ষিন অঞ্চলের ফল চাষের মধ্যে আমড়া অর্থনৈতিককভাবে একটি সমৃদ্ধ চাষ। এ বছর অতি বৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় ফল কম এবং ছোট হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছেনা কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় প্রতিবছরই বেড়েই চলছে আমড়া চাষ। দ্রুত পঁচনশীল না হওয়ায় সংরক্ষণ ও ভোক্তা পযার্য়ে পৌছে দিতে সময় পাওয়া যায়। একারণে আমড়া চাষ বেশ ভালজনক। আর পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর আরও সহজ হয়েছে দখিনাঞ্চলের এ সুস্বাদু ফলটির সরবরাহ। রোগ বালাই নিয়ন্ত্রণসহ আমড়া চাষে নিয়মিতভাবে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে ঝালকাঠি জেলায় এ বছর ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার ফলন হয়েছে। মৌসুম  শেষে মোট উৎপাদন হবে ৬ হাজার ৫’শ  মেট্রিকটন, যা বরিশাল বিভাগের অন্য জেলার চেয়ে বেশি।  এ জেলায় ১৫ হাজার ৪৭০ জন কৃষক আমড়ার আবাদ করেছে। তাদের উৎপাদিত এ ফসল থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। যা গ্রামীন অর্থনীতিতে গুরুত্ব পূর্ণ অবদান রাখবে বলে কৃষিবিদরা আশা প্রকাশ করছেন।

পেয়ারার শেষের পথে শুরু হয় আমড়ার বাজার। অথার্ৎ ভাদ্র মাসের শুরুতেই জমতে থাকে আমড়ার বিকিকিনি। চলে টানা দু’মাস। আর এ সময়টায় জলে কিংবা স্থলে ঝালকাঠি জেলা জুড়েই গ্রামে গ্রামে বসে আমড়ার বাজার। তবে সদর উপজেলার ভীমরুলি, শতদশকাঠি, ডুমুরিয়া, আতাসহ আশপাশের দশ গ্রামের আমড়ার ভাসমান বাজার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে এই পেয়ারা অঞ্চলের পেয়ারা মতই আমড়া চাষও তাদের একটি অর্থনৈতিক ফসল তবে প্রতিবছরই ১৫% পেয়ারা বাগান কেটে লাভজনক এই আমড়ার চাষ সম্প্রসারণ করছে এই পেয়ারা চাষিরাই।  বর্তমানে মৌসুম শুরুতে ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা মন দরে মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করছে এবং আমড়ার ফলন কমতে থাকার ধারাবাহিকতার মত দামও বাড়তে থাকবে।

এবছর অতি বৃষ্টি এবং বন্যা হওয়ার কারনে আমড়ার সাইজ ছোট ও ফলনও কম হয়েছে এবং দেশের চলমান পরিস্থিতির কারনে দূরদূরান্তের ক্রেতা- পাইকার না আসায় এবছর কৃষকরা দাম কম পাচ্ছে ।

বাধন রায়/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »