ইউরোপীয় সংসদ এবং ইউরোপীয় কমিশনের সম্মানিত সদস্যদের প্রতি, বাংংলাদেশী বংশোদ্ভুত অষ্ট্রিয়ার তরুন রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান (নয়ন)
ভিয়েনা ডেস্কঃ আমার নাম মাহমুদুর রহমান, আমি ভিয়েনার ২৩ নাম্বার জেলার একজন কাউন্সেলর এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং স্ট্রীমলাইন টেকনোলজির সিইও। আজ আমি গভীর দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমার দ্বিতীয় স্বদেশ বাংলাদেশের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে লিখছি।
ঐতিহাসিক পটভূমি: দেশের জন্য বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের সক্রিয়তার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যা আমাদের দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপর ১৯৭১ সালের বৈষম্যের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।
বর্তমান সংকট: এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতিধ্বনি করে, দেশের শিক্ষার্থীরা আবারও অনুভূত অন্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং একটি ন্যায্য ব্যবস্থার দাবিতে প্রতিবাদে এগিয়ে আসে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তারা আবার প্রতিবাদী হয়ে উঠে। দেশের সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পুনঃপ্রবর্তনের সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য। এই কোটা পদ্ধতি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরির উল্লেখযোগ্য শতাংশ সংরক্ষণ করে, যার মধ্যে রয়েছে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বংশধর, নারী এবং অনুন্নত এলাকার মানুষের জন্য। এই কোটা ব্যবস্থার ফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেধাবী শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোনও সুযোগ পাচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী অন্যায়ভাবে প্রতিহত করতে শুরু করলে গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শুধুমাত্র
আজ রবিবার (৪ আগষ্ট) দেশে ১০০ জনের বেশি প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং এমনকি বিদ্যুৎ।
তাছাড়াও ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে দমন করার লক্ষ্যে নিয়েছে নানা অবৈধ ও অমানবিক পদক্ষেপ। একটি স্পষ্ট ভয় আছে যে, আজ রাতে সরকার আরও তত বেশি রক্তপাত ঘটনানোর মধ্য দিয়ে অর্থাৎ যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় তার দখল বজায় রাখতে।
ইইউ-এর জরুরী হস্তক্ষেপের অনুরোধ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসন এই বিক্ষোভ দমন করতে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক অধিকার এবং একটি মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিবাদ করছে, কিন্তু তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সরকার অত্যন্ত স্বৈরাচারী প্রক্রিয়ায় নৃশংস আচরণ করছে, যদিও এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা রাজনৈতিক গতিপথ নির্দেশ করে না অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে।
তবে এটি ইইউর ম্যান্ডেটের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের পক্ষে সমর্থন করা এবং বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সমর্থন করা। ইইউ সবসময় ন্যায়বিচার,গণতন্ত্র এবং মানবিক মর্যাদা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইইউর কঠোর প্রতিবাদ বাংলাদেশে এই মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করতে বিশেষ অবদান রাখতে পারে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস