পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের বিভিন্ন নদ-নদীতে নদীতে ঘুরছে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো সুন্দরবনের কুমির। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। গত ৩দিন ধরে সুন্দরবনের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো কুমিরের আতংকে নদীতে গোসল করা সহ নামতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, লোনা পানির কুমিরের আচরন ও গতিবিধি গবেষনার জন্য সম্প্রতি সুন্দরবনের চারটি কুমিরের শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি কুমির সুন্দরবন ও লবনাক্ত পানিতে ঘোরঘুরি করলেও একটি চলে যায় পিরোজপুরের দিকে। ওই সব এলাকায় সাধারনত সাধু পানির এলাকা হিসাবে ধরা হয়।
স্থানীয় একাধীক সূত্র জানান, গত বুধবার (২৭ মার্চ) ওই কুমিরটি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মধ্য থেকে যাওয়া তুষখালী নদীতে দেখেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় মৎস্য জেলে মো. শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, তিনি ওই দিন সকালে কুমরিটিকে ভাসতে দেখেছেন। তার পিঠের অংশে সাদা কিছু দেখেছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো সুন্দর বনের কুমির বলে ধারনা করেছেন।
সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের তত্ত¡াবধায়ক মো. আজাদ কবির বলেন, গত ১৫দিন আগে সুন্দর বনের লবনাক্ত পানির ৪টি কুমিরের শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি কুমির সুন্দর বন এলাকায় অবস্থান করলেও একটি কুমির অন্যত্র চলে গেছে। আমাদের কাছে পাওয়া তথ্য সেটি এখন পিরোজপুরের নদ-নদীতে ঘুরছে। সব শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১২দিনে সেটি একশত কিলোমিটার পথ ঘুরছে। নিজের জন্য কোন নিরাপদ স্থান পেতে তার এমন পথ চলা বলে ধারানা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৩ মার্চ প্রথমে দুটি ও এর ৩ দিন পরে আরো দুটি কুমির অবমুক্ত কার হয়। সেই দুটির একটি কুমির এটি। অবমুক্ত করা ৪টি কুমিরের মধ্যে দুটি পুরুষ ও দুটি নারী কুমির রয়েছে। এর আগে সুন্দর বনের করমজল বন্য প্রাণি প্রজনন কেন্দ্র থেকে ২০০টি কুমির অবমুক্ত করা হয়েছিলো। কিন্তু তাদের গতিবিধি এমন ভাবে নজর দেয়া হয় নি। তবে এর আগে একই ভাবে শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে কচ্ছপ ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস