ভিয়েনা ১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চরফ্যাশনে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে কৃষকদলের নির্বাচনী কর্মী সমাবেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লালমোহনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৮ দেশের কূটনীতিকের অংশগ্রহণ করেছেন হবিগঞ্জে তরমুজের নিচে লুকিয়ে পাচারকালে ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ শিবির-জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে কুশপুতুল দাহ ও জুতা মিছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: আনোয়ারুল ইসলাম লালমোহন-তজুমুদ্দিনে কাউকে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেয়া হবে না : হাফিজ টাঙ্গাইলে এমন পর্যটনশিল্প গড়ে তুলব, আর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যেতে হবে না : টুকু

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুটফুটে শিশু আলিফা বাঁচতে চায়

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৪:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মার্চ ২০২৪
  • ২৮ সময় দেখুন

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: ফুটফুটে শিশু মোসা. আলিফা। বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। এখনো দুনিয়ার কিছুই বুঝার বয়স হয়নি তার। বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার স্বাদও বুঝে না শিশু আলিফা। যে বয়সে পুরো পরিবার মাতিয়ে রাখার কথা সে বয়সেই হসপিটালের বেডে কাতরাচ্ছে আলিফা। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সেই তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম চালাতে হচ্ছে। এটি কিসের সংগ্রাম তাও ঠিকঠাক বুঝে না আলিফা। তবে সবই বুঝেন তার পরিবারের লোকজন। কারণ ছোট্ট আলিফার কচি শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধী ক্যান্সার। শিশু মোসা. আলিফা ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের চরপাতা এলাকার মো. জামালের মেয়ে।

ওই শিশুর মামা মো. সোহেল মাহমুদ জানান, পাঁচ মাস আগে হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয় আলিফা। এরপর তাকে লালমোহনের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। তবুও কিছুতেই আলিফা সুস্থ্য হচ্ছিল না। শেষ-মেষ চিকিৎসক পরামর্শ দেন ঢাকায় নেওয়ার। পরামর্শ অনুযায়ী আলিফাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আলিফার ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আলিফা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে তার কেমোথ্যারাপীসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরো জানান, আলিফার বাবা আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল না। তিনি চট্টগ্রামে বালুর জাহাজে মাসিক পনের হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। তবে এরইমধ্যে গত পাঁচ মাসে আলিফার চিকিৎসায় বাড়ির বাগানের গাছ বিক্রির টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনদের দেওয়া সহযোগিতায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়ে গেছে। এখন আর কোনোভাবেই টাকা জোগাড়ের সাধ্য নেই। তবে চিকিৎসক বলেছেন; আলিফার পুরো চিকিৎসায় অন্তত বারো লাখ টাকার মতো খরচ হবে। এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা না পেলে অকালেই ঝরে যাবে আলিফার জীবন। তাই সকলের কাছে অনুরোধ করছি আলিফাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩০০৭৬৪৯৫৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

ক্যান্সার আক্রান্ত ওই শিশুর মা মোসা. নাজমা বেগম বলেন, আলিফাকে নিয়ে আমার মোট তিন সন্তান। আলিফাই সবার ছোট। ওর বাবার আর্থিক অবস্থা তত ভালো না। আলিফার ক্যান্সার আক্রান্তের খবর শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। ডাক্তার জানিয়েছেন; আলিফার চিকিৎসায় দরকার হবে অন্তত বারো লাখ টাকা। ক্যান্সার শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনো সাত থেকে আট লাখ টাকার মতো দরকার। কোথায় থেকে এতো টাকা জোগাড় করবো, তাই ভেবে উঠতে পারছি না। আমরা গরীব-অসহায়, তাই হয়তো এতো টাকা জোগাড়ও করতে পারবো না। তবে আমি আমার এই ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটাকেও হারাতে চাই না। তাই অনুরোধ করছি; মানবিক দিক থেকে হলেও যেন আমার মেয়ে আলিফার চিকিৎসায় সকলে এগিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারিভাবে অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

চরফ্যাশনে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুটফুটে শিশু আলিফা বাঁচতে চায়

আপডেটের সময় ০৪:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মার্চ ২০২৪

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: ফুটফুটে শিশু মোসা. আলিফা। বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। এখনো দুনিয়ার কিছুই বুঝার বয়স হয়নি তার। বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার স্বাদও বুঝে না শিশু আলিফা। যে বয়সে পুরো পরিবার মাতিয়ে রাখার কথা সে বয়সেই হসপিটালের বেডে কাতরাচ্ছে আলিফা। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সেই তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম চালাতে হচ্ছে। এটি কিসের সংগ্রাম তাও ঠিকঠাক বুঝে না আলিফা। তবে সবই বুঝেন তার পরিবারের লোকজন। কারণ ছোট্ট আলিফার কচি শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধী ক্যান্সার। শিশু মোসা. আলিফা ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের চরপাতা এলাকার মো. জামালের মেয়ে।

ওই শিশুর মামা মো. সোহেল মাহমুদ জানান, পাঁচ মাস আগে হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয় আলিফা। এরপর তাকে লালমোহনের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। তবুও কিছুতেই আলিফা সুস্থ্য হচ্ছিল না। শেষ-মেষ চিকিৎসক পরামর্শ দেন ঢাকায় নেওয়ার। পরামর্শ অনুযায়ী আলিফাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আলিফার ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আলিফা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে তার কেমোথ্যারাপীসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরো জানান, আলিফার বাবা আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল না। তিনি চট্টগ্রামে বালুর জাহাজে মাসিক পনের হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। তবে এরইমধ্যে গত পাঁচ মাসে আলিফার চিকিৎসায় বাড়ির বাগানের গাছ বিক্রির টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনদের দেওয়া সহযোগিতায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়ে গেছে। এখন আর কোনোভাবেই টাকা জোগাড়ের সাধ্য নেই। তবে চিকিৎসক বলেছেন; আলিফার পুরো চিকিৎসায় অন্তত বারো লাখ টাকার মতো খরচ হবে। এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা না পেলে অকালেই ঝরে যাবে আলিফার জীবন। তাই সকলের কাছে অনুরোধ করছি আলিফাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩০০৭৬৪৯৫৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

ক্যান্সার আক্রান্ত ওই শিশুর মা মোসা. নাজমা বেগম বলেন, আলিফাকে নিয়ে আমার মোট তিন সন্তান। আলিফাই সবার ছোট। ওর বাবার আর্থিক অবস্থা তত ভালো না। আলিফার ক্যান্সার আক্রান্তের খবর শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। ডাক্তার জানিয়েছেন; আলিফার চিকিৎসায় দরকার হবে অন্তত বারো লাখ টাকা। ক্যান্সার শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনো সাত থেকে আট লাখ টাকার মতো দরকার। কোথায় থেকে এতো টাকা জোগাড় করবো, তাই ভেবে উঠতে পারছি না। আমরা গরীব-অসহায়, তাই হয়তো এতো টাকা জোগাড়ও করতে পারবো না। তবে আমি আমার এই ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটাকেও হারাতে চাই না। তাই অনুরোধ করছি; মানবিক দিক থেকে হলেও যেন আমার মেয়ে আলিফার চিকিৎসায় সকলে এগিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারিভাবে অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস