ভিয়েনা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলা হবে আফগান আমরা হবো তালেবান এটা জামায়াতে ইসলামীর স্লোগান – মেজর হাফিজ গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব চরফ্যাশনে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে কৃষকদলের নির্বাচনী কর্মী সমাবেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লালমোহনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৮ দেশের কূটনীতিকের অংশগ্রহণ করেছেন হবিগঞ্জে তরমুজের নিচে লুকিয়ে পাচারকালে ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ শিবির-জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে কুশপুতুল দাহ ও জুতা মিছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: আনোয়ারুল ইসলাম

ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শর্ত মেনে তৃতীয় দেশে আশ্রয় প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব – UNHCR

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০২৩
  • ৩৫ সময় দেখুন

আশ্রয়প্রার্থীদের নিজেদের সীমানার বাইরে অর্থাৎ তৃতীয় নিরাপদ দেশে রেখে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)

ইউরোপ ডেস্কঃ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, বুধবার (৮ নভেম্বর) জার্মানিস্থ UNHCR এক বিবৃতিতে তাদের এই নিজের মতামত ব্যক্ত করেছে। তবে এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে বলেও জানিয়েছে তারা ৷ উল্লেখ্য যে,বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আর নিজেদের দেশে রাখতে চাইছে না।

ইউরোপের বাইরে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানির সরকার৷ রাজধানী বার্লিনে সোমবার (৬ নভেম্বর) দেশটির ১৬টি রাজ্যের রাজ্যপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস৷ সেই বৈঠক থেকেই এই ইস্যুতে একমত হয়েছেন সবাই ৷

স্টেট প্রিমিয়ার কনফারেন্সের এক নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘জেনেভা শরণার্থী কনভেনশন এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত ইউরোপীয় কনভেনশন মেনে ভবিষ্যতে ট্রানজিট বা তৃতীয় দেশেও শরণার্থীদের সুরক্ষা প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখবে ফেডারেল সরকার ৷’’

ঠিক তার দুদিনের মধ্যেই জার্মানিস্থ ইউএনএইচসিআর এই বিবৃতি দিয়েছে৷ এতে বলা হয়েছে, তৃতীয় নিরাপদ দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি এই দেশগুলো জেনেভা শরণার্থী কনভেনশন এবং মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা ও অধিকারকে পুরোপুরি মেনে চলে ৷

জার্মানিতে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ক্যাটারিনা লুম্প জোরের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন অনুসারে, আশ্রয় আবেদনের যাচাই বাছাই এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেয়ার ‘প্রাথমিক দায়িত্ব’ সেই রাষ্ট্রের উপর বর্তায় যে দেশটিতে একজন আশ্রয়প্রার্থী আসেন এবং সুরক্ষার আবেদন করেন৷ তৃতীয় নিরাপদ দেশে রেখে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাই বাছাই করলেও আশ্রয়প্রার্থী যে দেশে আশ্রয় চেয়েছেন, সেই দেশের দায়িত্ব কোনো অংশে কমবে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি ৷

জার্মানির ব্রেমেন, লোয়ার স্যাক্সনি এবং থুরিঙ্গিয়া রাজ্যের বামপন্থি রাজ্যপ্রধানেরা, আশ্রয়প্রার্থীদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন৷ তারা বলেছেন, তৃতীয় কোনো দেশের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণে অবশ্যই তাদের মতামত থাকতে হবে ৷

এদিকে, গ্রিন পার্টির নেতা রিকার্ডা লাং সংবাদমাধ্যম আরটিএলকে জানিয়েছেন, তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না যে এই ধারণাটি বাস্তবায়নে অন্য একটি দেশকে খুঁজে বের করতে চায় জার্মানি৷ তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়াটি মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে ৷

মঙ্গলবার জার্মানির টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে লেফট পার্টির সাবেক রাজনীতিবিদ জারা ভাগেনক্নেশট বলেন, ‘‘যারা সত্যিকার অর্থে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য, তাদের ইউরোপে আসার নিরাপদ ও আইনি পথ থাকা উচিত৷ যারা আশ্রয়ের অধিকারী নয় তাদের উচিত নয়৷’’ তৃতীয় একটি দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের রেখে আবেদন যাচাই বাছাইয়ের পরিকল্পনা অবশ্য জার্মানি ছাড়া আরো কয়েকটি দেশও করছে ৷

আশ্রয়প্রার্থীদের আলবেনিয়ার রেখে আবেদন প্রক্রিয়াকরণে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছে ইতালি ৷ ৬ নভেম্বর চুক্তিতে সই করেন ইতালির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এবং আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা ৷ এই চুক্তির অধীনে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা অভিবাসীদের জন্য আলবেনিয়ায় দুটি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইতালি ৷ সেই কেন্দ্র দুটিতে রাখা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে যাদের আবেদন মঞ্জুর হবে, তাদের ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হবে ৷

অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠাতে একটি চুক্তি সই করেছে যুক্তরাজ্য৷ কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞায় সেই চুক্তি বাস্তবায়ন এখনও করতে পারেনি দেশটি ৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

বাংলা হবে আফগান আমরা হবো তালেবান এটা জামায়াতে ইসলামীর স্লোগান – মেজর হাফিজ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শর্ত মেনে তৃতীয় দেশে আশ্রয় প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব – UNHCR

আপডেটের সময় ০৮:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০২৩

আশ্রয়প্রার্থীদের নিজেদের সীমানার বাইরে অর্থাৎ তৃতীয় নিরাপদ দেশে রেখে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)

ইউরোপ ডেস্কঃ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, বুধবার (৮ নভেম্বর) জার্মানিস্থ UNHCR এক বিবৃতিতে তাদের এই নিজের মতামত ব্যক্ত করেছে। তবে এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে বলেও জানিয়েছে তারা ৷ উল্লেখ্য যে,বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আর নিজেদের দেশে রাখতে চাইছে না।

ইউরোপের বাইরে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানির সরকার৷ রাজধানী বার্লিনে সোমবার (৬ নভেম্বর) দেশটির ১৬টি রাজ্যের রাজ্যপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস৷ সেই বৈঠক থেকেই এই ইস্যুতে একমত হয়েছেন সবাই ৷

স্টেট প্রিমিয়ার কনফারেন্সের এক নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘জেনেভা শরণার্থী কনভেনশন এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত ইউরোপীয় কনভেনশন মেনে ভবিষ্যতে ট্রানজিট বা তৃতীয় দেশেও শরণার্থীদের সুরক্ষা প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখবে ফেডারেল সরকার ৷’’

ঠিক তার দুদিনের মধ্যেই জার্মানিস্থ ইউএনএইচসিআর এই বিবৃতি দিয়েছে৷ এতে বলা হয়েছে, তৃতীয় নিরাপদ দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি এই দেশগুলো জেনেভা শরণার্থী কনভেনশন এবং মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা ও অধিকারকে পুরোপুরি মেনে চলে ৷

জার্মানিতে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ক্যাটারিনা লুম্প জোরের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন অনুসারে, আশ্রয় আবেদনের যাচাই বাছাই এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেয়ার ‘প্রাথমিক দায়িত্ব’ সেই রাষ্ট্রের উপর বর্তায় যে দেশটিতে একজন আশ্রয়প্রার্থী আসেন এবং সুরক্ষার আবেদন করেন৷ তৃতীয় নিরাপদ দেশে রেখে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাই বাছাই করলেও আশ্রয়প্রার্থী যে দেশে আশ্রয় চেয়েছেন, সেই দেশের দায়িত্ব কোনো অংশে কমবে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি ৷

জার্মানির ব্রেমেন, লোয়ার স্যাক্সনি এবং থুরিঙ্গিয়া রাজ্যের বামপন্থি রাজ্যপ্রধানেরা, আশ্রয়প্রার্থীদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন৷ তারা বলেছেন, তৃতীয় কোনো দেশের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণে অবশ্যই তাদের মতামত থাকতে হবে ৷

এদিকে, গ্রিন পার্টির নেতা রিকার্ডা লাং সংবাদমাধ্যম আরটিএলকে জানিয়েছেন, তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না যে এই ধারণাটি বাস্তবায়নে অন্য একটি দেশকে খুঁজে বের করতে চায় জার্মানি৷ তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়াটি মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে ৷

মঙ্গলবার জার্মানির টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে লেফট পার্টির সাবেক রাজনীতিবিদ জারা ভাগেনক্নেশট বলেন, ‘‘যারা সত্যিকার অর্থে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য, তাদের ইউরোপে আসার নিরাপদ ও আইনি পথ থাকা উচিত৷ যারা আশ্রয়ের অধিকারী নয় তাদের উচিত নয়৷’’ তৃতীয় একটি দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের রেখে আবেদন যাচাই বাছাইয়ের পরিকল্পনা অবশ্য জার্মানি ছাড়া আরো কয়েকটি দেশও করছে ৷

আশ্রয়প্রার্থীদের আলবেনিয়ার রেখে আবেদন প্রক্রিয়াকরণে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছে ইতালি ৷ ৬ নভেম্বর চুক্তিতে সই করেন ইতালির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এবং আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা ৷ এই চুক্তির অধীনে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা অভিবাসীদের জন্য আলবেনিয়ায় দুটি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইতালি ৷ সেই কেন্দ্র দুটিতে রাখা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে যাদের আবেদন মঞ্জুর হবে, তাদের ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হবে ৷

অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠাতে একটি চুক্তি সই করেছে যুক্তরাজ্য৷ কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞায় সেই চুক্তি বাস্তবায়ন এখনও করতে পারেনি দেশটি ৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস