পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন আউলিয়াপুর ইউনিয়নে গুমের ৭দিন পর লবন মাখা অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো শিশু রাতুলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আসামীরা হলো, সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পার্শবর্তী গ্রামের মফেজ মাতুব্বরের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও পাশ^বর্তী জৈনকাঠী ইউনিয়নের সেহাকাঠী গ্রামের এনছান হাওলাদারের ছেলে মোঃ হানিফ হাওলাদার (৪১)।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং করে।
রাতুল আউলিয়াপুর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র। এ ঘটনায় শিশু রাতুলের পিতা গোলাম রহমান লিটন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, গোলাম রহমান লিটন ঘরামীর ছেলে রাতুলকে সাইকেল ক্রয়ের জন্য ১৪ হাজার লোভ দেখিয়ে মালামাল লুটে নেয়ার পরিকল্পনা করে আনোয়ারসহ আসামীরা। তাদের পরিকল্পনামতে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলে রাতুলের মাধ্যমে ঘুমের ঔষধ (চেতনা নাশক ঔষধ) খাবারে মিশিয়ে তার বাবা, মা আছমা বেগম ও দাদী রিজিয়া বেগমকে অচেতন করে। পরিকল্পনা অনযায়ী আসামীরা গভীর রাতে ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে সামনের দরজা খুলে ঘর সংলগ্ন মালামালের ডেকোরেটর দোকান হতে সাউন্ড সিস্টেমের বিভিন্ন দামী সরঞ্জামাদি, অটোরিক্সার ব্যাটারী চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনা যাতে জানাজানি না হয়, সে জন্য ঘটনার একমাত্র সাক্ষী ভিকটিম শিশু রাতুলকে রাতেই তাদের নিজ বসতঘরে মুখ চেপে ধরে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিয়ে যায় আসামী আনোয়ার। পরবর্তীতে হত্যাকান্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ভিকটিমের লাশ গুমের উদ্দেশ্যে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব আউলিয়াপুর গ্রামের জনৈক মোঃ জয়নাল বিশ্বাস এর বাড়ীর পিছনে পরিত্যক্ত টিনসেড (ইটের ওয়াল) ঘরের কাঁচা মেঝের পশ্চিম দক্ষিণ কোনে ০৫ ফুট মাটির গভীরে লাশের গায়ে লবণ দিয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখে আসামীরা। আসামীদ্বয়ের দেয়া তথ্যমতে চোরাইকৃত মালামাল আসামী মোঃ হানিফ হাওলাদারের বসত ঘরের পিছনে রান্না ঘরের মাটির নিচ হতে সাউন্ড সিস্টেমের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং বসত ঘরের পিছনে ডোবা হতে অটোরিক্সার ব্যাটারী উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত চলছে।
মো:ইউসুফ/ইবিটাইমস