পরিকল্পিত এলাকার কারখানায় গ্যাস বিদ্যুতর সংকট হব না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

মো. নাসরুল্লাহ, ঢাকা: পরিকল্পিত এলাকায় শিল্প-কারখানা স্থাপন করলে গ্যাস বিদ্যুতের সংকট হবেনা বল জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শনিবার ঢাকায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারশন অব বাংলাদশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত “বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাত্তম ব্যবহার : বঙ্গবন্ধুর দর্শন” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট দ্রুত উত্তরণের উদ্যােগ নিয়েছে সরকার। এজন্য বহুমুখী জ্বালানি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমদানির উপর নির্ভরশীল না হয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। উৎপাদন অংশীদার চুক্তি-পিএসসি যুগোপযোগী করা হয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশকে সামনে রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যােগ অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরে সদ্য স্বাধীন একটি দেশকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের ভিত্তি বিনির্মাণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দক্ষ জনসম্পদ তৈরির জন্য তিনি কর্মকর্তাদের রাশিয়াসহ উনত দেশে প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছিলেন। খনিজ সম্পদের উপর জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করেছিলেন।

নসরুল হামিদ বলেন, আগামী দুই বছর বাংলাদেশের জন্য ‘ক্রিটিকাল টাইম’ হলেও গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে এগোলে সাফল্য আসবেই। তিনি বলেন, সামনর বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার উন্মােচিত হয়েছে। এটিকে কাজে লাগাতর হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘সমুদ্র অঞ্চলে ডেনমার্কের একটি কোম্পানি অফশোর উইন্ড পাওয়ার করার জন্য ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। অফশোর গ্যাসের জন্য মাল্টি ক্লায়েট সার্ভে শেষ পর্যায়ে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে অনেক কোম্পানি সমুদ্রে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। জানান, এক্সন মবিল লিখিতভাবে আবেদন করেছে। সব প্রস্তাব যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান নসরুল হামিদ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ভর শেষ হলে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি বলেন, আশা করছি সমুদ্র থেকে আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে আমরা গ্যাস পাবো।

সামনে নতুন গ্যাস পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনার চেষ্টা চলছে। সরকারের আরেকটা সংযোজন সিঙ্গেল মুরিং পাইপ লাইন বলেও উল্লেখ করেন তিনি

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদররূল ইমাম। তিনি দেশের কোন অঞ্চলে কী ধরনের খনিজ সম্পদ থাকতে পারে তার গবেষণাধর্মী তত্ব উপস্থাপন করেন। একই সাথে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যর এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকট সবচেয় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জ্বালানি খাত। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ এটি। জ্বালানির দাম বাড়ায় বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় দেশের উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ছেন।

ইবিটাইমস/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »