ভোলা প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্বীপ জেলা ভোলায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ভোলার উৎপাদিত তরমুজ চলে যায় বাইরের জেলায়।
তরমুজ আবাদে বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়ায়ে গেছে। রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমন না থাকায় হয়নি ফলনের কোন বিপর্যয়। এতে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।কাঙ্খিত পরিমান ফলন পেয়ে উৎপাদন খরচ পুশিয়ে ঘুরে দাড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন চাষীরা।
ভোলা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।তরমুজের ওজনের পরিমান ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে।গত বছর যা ছিলো ১২ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী তরমুজ আবাদ হওয়ায় বিগত দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছে তারা।আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়বে বলে মনে করছে।
ভোলার কৃষকের বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেতে তরমুজের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন হয়েছে ভালো। এখন চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। কেউ ক্ষেত পরিচর্যা, সার-ওষুধ প্রয়োগ, আগাছা দমন আর কেউ বা তরমুজ কর্তন নিয়ে ব্যস্ত। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।
রোগ ও পোকার আক্রমণ না থাকায় বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এ বছর তরমুজের ফলনে কোন বিপর্যয় হয়নি, ভালো ফলন পেয়েছেন চাষীরা। ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সন্তুষ্ট তারা।
লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের কৃষক তরিকুল ও ফরহাদ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের ফল ভালো। আমরা লাভবান হতে পারবো বলে মনে করছি।
আরেক কৃষক রাসেল, স্বপন ও লোকমান বলেন, এ বছর ফলনে কোন বিপর্যয় নেই। তাই ফলন ভালো। বাজার দামও ভালো পাবো বলে আশা করছি।
লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা টুটুল চন্দ্র সাহা বলেন, আমার এলাকার ৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। সবার ফলন অনেক ভালো। আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। ফলন ভালো হওয়ায় তরমুজ আবাদে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।
এ ব্যাপারে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ হাসান ওয়াসিরুল কবীর বলেন, ভোলার তরমুজের চাহিদা বেশি, তাই বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয়। আগামীতে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশাবাদী।
মনজুর রহমান/ইবিটাইমস/এম আর