২০২২ সালে ঝিনাইদহে ১৫ লাখ ২১ হাজার মানুষের চিকিৎসা প্রদান
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহে গ্রামা লে নিয়োগকৃত ডাক্তারগন কর্মস্থলে যান না বলে অভিযোগ। ফলে গ্রামের মানুষের ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ২০২২ সালে জেলার কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো থেকে ১৫ লাখ ২১ হাজার ২৮৩ জন কে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা যায়, জেলায় এক’শ ৭৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এসব ক্লিনিক থেকে গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্কাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়। এখানে শিশুদের সর্দি, কাশি, জ¦র, ডায়রিয়া,গর্ভবতী মায়েদের আইরন, ক্যালসিয়াম ও পুষ্টি ঘাটতির চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও সাধারন রোগিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। ক্লিনিকে আগত রোগিদের ২৭ প্রকার ওষুধ দেওয়া হয়। কোন কোন ক্লিনিকে ডায়াবেটিস পরীক্ষারও ব্যবস্থা আছে। চিকিৎসা দেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাডারগন। তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আরেক জন মাল্টিপারপাস হেলথ ভলেন্টিয়ার থাকেন। তারা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক চালান।
শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার জোবায়দা পারভিন পপি জানান, প্রতিদিন ৩৫ -৪০ জন রোগী চিকিৎসা পেতে ক্লিনিকে আসে। শিশু ও মহিলা ছাড়াও বয়ষ্করাও এসে থাকে। বর্তমানে তাদের ২৭ প্রকার ওষুধ দেওয়া হয়। সাধারণ রোগ তাদের দেওয়া ওষুধে সেরে যায়। জটিল রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার্ড করা হয়ে থাকে।
বারইপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা মিতা খাতুন বলেন, অসুখ হলে এখানে আসি। তারা ওষুধ দেয়। ভালই কাজ হয়।
আব্দুর রশিদ বলেন, সাধারন রোগির ব্যাধির চিকিৎসা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসায় সেরে যায়। হাতের কাছে তাদের পাওয়া যায়।
জানা যায়, জেলার প্রতি ইউনিয়নে একজন করে মেডিকেল অফিসার পোষ্টিং আছে। তাদের বেশির ভাগ সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন। কেউ কেউ ডেপুটেশনে সদর হাসপাতালে কাজ করছেন। এছাড়াও জেলায় ১৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। দু একটি ছাড়া ডাক্তার যান না। শৈলকুপা উপজেলায় আবাইপুর ও কচুয়াতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। কচুয়াকে সুন্দর ভবন নিমান করা হয়েছে। ডাক্তারের থাকার সুব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেখানে ডাক্তার নেই। আর আবাইপুরে ডাক্তার থাকলেও তিনি যান না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর ও বারোজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার আছেন। তারা সপ্তাহে একদিন যান। অন্যদিন গুলোতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নে নিযুক্ত একজন মেডিকেল অফিসার বলেন, ইউনিয়নে তাদের বসার কোন জায়গা নেই। সেকারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করেন।
সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সরকার সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে। সাধারন রোগ ব্যাধির চিকিৎসা মানুষ এখান থেকে পাচ্ছে। জটিল রোগিদের জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে তারা রেফার্ড করে থাকে। তিনি বলেন, এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারন ডাক্তারের অভাব নেই। কন্সালট্যান্ট ডাক্তারের অভাব আছে।
শেখ ইমন/ইবিটাইমস