হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষের পাশাপাশি ফুলকপি চাষে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। সবজি বিক্রেতারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ফুলকপি কিনছেন ২০-২৫ টাকায়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়া গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়া জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে ৬ হাজার ফুলকপি চারা রোপণ করেন। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় প্রতিটি গাছেই ভালো ফলন এসেছে। একেকটি ফুলকপি এক থেকে দেড় কেজি হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষে তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন তিনি। আশা করছেন অবশিষ্ট ফুলকপি বিক্রি করে আরও এক লাখ টাকা পাবেন।
এছাড়াও তিনি প্রায় ৩ একর জমিতে টমেটো, বেগুন, সীমসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি আবাদ করেছে। এসব ফসলের পরিচর্যায় নিয়মিত ৪-৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন তার ক্ষেতে। এতে করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি।
কৃষি শ্রমিক শোয়েব মিয়া জানান, তিনি দৈনিক ৫ শ’ টাকা মজুরিতে রুবেল মিয়ার সবজি ক্ষেতে কাজ করেন। বীজতলা প্রস্তুতি থেকে শুরু করে চারা রোপন, সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, বাজারে বিক্রি করা পর্যন্ত তিনি কাজ করেন। এতে করে ভালোভাবেই তিনি তার পরিবারের খরচ বহন করতে পারছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ বছর উপজেলায় ৭৭৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি আবাদ হয়েছে,যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর বেশী।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী প্রত্যেক ইঞ্চি অনাবাদি পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার জন্য আমরা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সবজি চাষ বাড়ানোর জন্য সরকারিভাবে বীজ সহায়তা ছাড়াও প্রনোদনা কার্যক্রম চলমান আছে। কৃষি বিভাগ সর্বদা কৃষকের পাশে আছে।
মোতাব্বির হোসেন কাজল/ইবিটাইমস