ভিয়েনা পুন:রায় করোনার লাল জোনে

ইউরোপের প্রথম রাজধানী হিসাবে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা পুন:রায় করোনার সংক্রমণ বিস্তারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনে

ব্যুরো চীফ, অস্ট্রিয়াঃ আজ শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে,অস্ট্রিয়ার করোনার ট্রাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ফেডারেল রাজধানী ভিয়েনার প্রতি এক লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত একশত জনের ওপরে।

ইউরোপিয়ান মেডিক্যাল এজেন্সির নির্দেশনা অনুযায়ী কোন জনপদ,দেশ বা অঞ্চলের প্রতি একলাখ মানুষের মধ্যে ১০০ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হলে সে অঞ্চলকে করোনার সংক্রমণ বিস্তারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ “লাল জোন” হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তবে করোনার ট্রাফিক লাইট কমিশন রাজধানী ভিয়েনায় করোনা ট্রাফিক লাইট লাল করলেও অস্ট্রিয়ার বাকি অংশকে চলমান সপ্তাহে করোনার কমলা জোনেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার করোনা টাস্ক ফোর্স গত সপ্তাহেই অস্ট্রিয়ায় বৈশ্বিক মহামারী করোনার নতুন প্রাদুর্ভাবের সতর্কতা দিয়েছিল। এপিএ আরও জানায় অস্ট্রিয়াকে ইতিমধ্যেই গত সপ্তাহে “উচ্চ ঝুঁকি” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল এবং এই সপ্তাহে ফেডারেল রাজ্যগুলির মূল্যায়নে ভিয়েনাই একমাত্র যার ঝুঁকি সংখ্যা ১০০ এর বেশি, যার অর্থ “খুব উচ্চ” এবং তাই রাজধানীকে লাল রঙে রঞ্জিত করা হয়েছে।

এদিকে করোনার ট্রাফিক লাইট কমিশনের নির্দেশনায় গড়ে সমগ্র অস্ট্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ কমলা জোনে হলেও আপার অস্ট্রিয়া(ÖO) এবং ভোরালবার্গকে (Vorarlberg)”মাঝারি ঝুঁকি” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। বাকি ফেডারেল রাজ্য সমূহ সমগ্র একই ঝুঁকির স্তরে রয়েছে এবং তাই কমলাও দেখাচ্ছে – গত সপ্তাহে ক্যারিন্থিয়া, লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং তিরলকে এক ধাপ ভালো রেট দেওয়া হয়েছে। ১২ অক্টোবর পর্যন্ত, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের লোড ছিল অস্ট্রিয়ায় সমস্ত রিপোর্ট করা প্রাপ্তবয়স্ক নিবিড় পরিচর্যা শয্যার উপর ভিত্তি করে, একটি কোভিড-নির্দিষ্ট দখলের হার শতকরা ৬,৩ শতাংশ; সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য, অস্ট্রিয়া জুড়ে এই মান ছিল শতকরা ৬,৬ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এই দুটি মান ছিল যথাক্রমে ৩,৯ এবং ৫,১ শতাংশে।

অস্ট্রিয়ার করোনার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। করোনা-পজিটিভ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডের লোড প্রাথমিকভাবে বাড়বে, সম্প্রতি বলা হয়েছিল, তবে এই বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে এবং শীঘ্রই বেড কভারিংয়ের শীর্ষে পৌঁছানো যেতে পারে। নিবিড় পরিচর্যা খাতে সামান্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।

অস্ট্রিয়ার করোনা কমিশনের সুপারিশ, করোনা কমিশন কোভিড-১৯ টিকা এবং ওষুধের পাশাপাশি পরীক্ষার অফার আরও বেশি ব্যবহার করার সুপারিশ করেছে। এছাড়াও,সমগ্র অস্ট্রিয়ার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে একটি FFP2 মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও যখন খুব ঘন ঘন অভ্যন্তরীণ এলাকায় এবং যখন দুর্বল লোকেদের সংস্পর্শে থাকে। উপরন্তু, একজনের উচিত – যথারীতি – নিয়মিতভাবে বাতাস চলাচল করা, আপনার দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোঁয়ার মতো করোনার পূর্বের মত স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অস্ট্রিয়ায় অন্তত করোনা সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে গত দুই বছরে খুব কমই ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ ঘটেছে। এর ফলে জনসংখ্যা খুব কমই টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং এই বছর “আসল ফ্লু” এর আরও কেস হতে পারে, এটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি বোঝা পড়বে। যাইহোক, কিছু করোনা ব্যবস্থা যেমন একটি মাস্ক পরা, বায়ুচলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধিও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে খুব ভালভাবে রক্ষা করবে এবং করোনা কমিশন ফ্লু টিকা দেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা করোনার সংক্রমণ বিস্তারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনে হলেও আপাতত নতুন কোন বিধিনিষেধ আসছে না। তবে গতকাল মেয়র মিখাইল লুডভিগ (SPÖ) ভিয়েনায় চলমান বিধিনিষেধ বর্ধিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে গণপরিবহনে ও সমগ্র স্বাস্থ্য পরিষেবায় বাধ্যতামূলক FFP2 মাস্ক পড়া। অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাউখ আগামী ২৩ অক্টোবর সমগ্র অস্ট্রিয়ায় ভিয়েনার মতোই বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার নিয়ম ফিরে আসার ঈন্গিত দিয়েছেন।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ১২,৪৫৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন। বর্তমানে সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১২১ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২,৫৩৮ জন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত সাত দিনে অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ÖO রাজ্যে ১,১৯০,৯ জন, Kärnten রাজ্যে ১,১১৮,৬ জন,Tirol রাজ্যে ১,০৯৪,৯ জন,Salzburg রাজ্যে ১,০৮৮,১ জন NÖ রাজ্যে ১,০৪৭ জন, Burgenland রাজ্যে ২,০৩৮,৩ জন, Steiermark রাজ্যে ১,০০৬,৭ জন,ভিয়েনায় ৮৭৩,১ জন এবং Vorarlberg রাজ্যে ৮২৬,৬ জন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »