ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

৬ষ্ঠ পর্ব  

 ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ৫১। এমতাবস্থায় উপরোল্লিখিত সমুদয় ঘটনাবলীর আলোকে এবং সামগ্রিক বিবেচনার ধারাবাহিকতায় বিগত ১৯৭১ সনের মার্চ মাসে বিশেষ করে ৭ই মার্চ তারিখে দেশে বিরাজমান সামগ্রিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করে স্বচ্ছ এবং পরিচ্ছন্ন ধারণা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ খুব সহজেই হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন যে, ঐ দিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করা আদৌ সম্ভব এবং স্বাভাবিক ছিল কিনা। আর তা না করে তিনি কোন দোষ কিংবা ভুল করেছেন কিনা। এরই পাশাপাশি বিদগ্ধ ব্যক্তিগণ এটাও অনুধাবন করতে পারবেন যে, খুবই সাবধানে এবং নিদারুণ বিচক্ষণতার সাথে শব্দচয়ন করে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ৭ই মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু সরাসরি না বললেও প্রকৃত প্রস্তাবে ঐদিন তিনি দেশের স্বাধীনতাই ঘোষণা করেছেন। তাঁর এহেন কৌশলী এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ভাষণ আইনের নিরিখে এবং যুক্তির নিরিখে বিবেচনা করার পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপরোক্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে একথা অনস্বীকার্যভাবেই প্রমাণিত হয় যে, উপরোক্ত অত্যন্ত কৌশলী, সময়োপযোগী এবং সুদূরপ্রসারী ভাষণ দেয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শুধু নিজেই বড় হননি, একই সঙ্গে তাঁর দেশ এবং জাতিকেও অনেক বড় করে গেছেন।

৫২। ৭ই মার্চের পুরো ভাষণটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার অপবাদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার নিমিত্তে বঙ্গবন্ধু সম্যকভাবে অবহিত ছিলেন বিধায় দেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে সবদিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে কৌশলী মুজিব অত্যন্ত সাবধানে এবং চরম বিচক্ষণতার সাথে তাঁর ভাষণের প্রতিটি শব্দ চয়ন করেন এবং যথোপযুক্ত বাক্য সংযোজন করে তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণ প্রদান করেন। ফলে পূর্ব পাকিস্তান কিভাবে বাংলাদেশ হয়ে গেল তা পাকিস্তানের তাবেদার সরকার, তাদের সেনাবাহিনী এবং উচ্চ পদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তাগণ গভীরতম হতাশা এবং দীর্ঘশ্বাসের সাথে প্রত্যক্ষ করলেন। একটি মহান জাতি রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে তার অবিসংবাদিত নেতার তাৎক্ষণিক বাগ্মিতা, বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা এবং কৌশলী অবস্থান কতটা ব্যাপক এবং গভীর ছিল বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে এবং বিমুগ্ধ চিত্তে তা অনুধাবন করতে সক্ষম হলেন। তাই বঙ্গবন্ধুর এই অবিস্মরণীয় ভাষণের তাৎপর্য পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে যুগ যুগ ধরে বিশ্বের নিপীড়িত মানুষকে উৎসাহিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ধারার গভীরতা কতটা ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী ছিল শুধুমাত্র রাজনীতি কিংবা ভাষার ব্যবহার নিয়ে নয় বরং হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে তা অনুধাবন করতে হবে এবং দেশপ্রেমের ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৫৩। শত শত বছর ধরে অধিকার হারা বাঙালি জাতির অধিকার হরণের করুণ ইতিহাস, বারবার তাদের আশা ভঙ্গের বেদনা, স্বপ্ন এবং প্রত্যাশার অপমৃত্যু, প্রতিটি বাঙালির হৃদয়স্পর্শী আর্তনাদ এবং তাদের হারানো অধিকার আদায়ের নিমিত্তে বজ্রকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু যখন অত্যন্ত প্রাণস্পর্শী এবং সাবলীল ভাষায় গগনবিদারী ভাষণ দিয়েছেন, তখন আওয়ামী লীগের প্রায় সব সিনিয়র নেতৃবৃন্দই মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। কিন্তু ঐদিন বঙ্গবন্ধু ছিলেন একক বক্তা। স্বীকৃত মতেই তাঁর ঐ ভাষণ কোন লিখিত ভাষণ ছিলনা। অথচ উক্ত ভাষণ শুনে যে কারও মনে হবে বঙ্গবন্ধু যেন কবিতার ছন্দে ছন্দে অনর্গলভাবে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করে গেছেন। এই ভাষণের কোন পর্যায়েই তাঁকে কখনো বিচলিত দেখা যায়নি কিংবা অপ্রস্তুত ও মনে হয়নি। কবির কাব্যের মতো, শিল্পীর রং তুলির মতো, সুরকারের সুরের মূর্ছনার মতো এবং একজন পোড় খাওয়া প্রাজ্ঞ নেতার মতো তিনি যেমন বাঙালির দুঃখ-দুর্দশা এবং শোষণ- বঞ্চনার ইতিহাস অবিরামভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন, ঠিক তেমনি একটি মরণপণ যুদ্ধের প্রস্তুতির ব্যাপারে নানাবিধ দিকনির্দেশনাও অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপস্থাপন করেছেন।

৫৪। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি কোন লিখিত ভাষণ ছিলনা। এটি ছিল অলিখিত এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণ। এই ভাষণ স্বল্প পরিসরে আয়োজিত কোন সভা কিংবা সেমিনার অথবা সিম্পোজিয়াম বা কোন হলরুমে প্রদত্ত ভাষণ ছিল না। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত এবং দীর্ঘদিন ধরে শোষিত, বঞ্চিত এবং অধিকার হারা বাঙালির সার্বিক মুক্তি এবং সামগ্রিক কল্যাণের জন্য দিক নির্দেশনা পূর্ণ ছিল এই ভাষণ। প্রকৃত প্রস্তাবে এই ভাষণ ছিল একটি অগ্নি মশাল এবং মরণপণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির পূর্বে একটি প্রজ্জ্বলিত দাবানল। এই দাবানলের সামনে টিকতে পারেনি তৎকালীন পাকিস্তানের অপরিণামদর্শী স্বৈরশাসকগোষ্ঠী এবং তাদের সুসজ্জিত সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনিং নেয়া হানাদার পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত এবং
অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রসমূহ দ্বারা সজ্জিত বর্বর সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে অপ্রশিক্ষিত এবং লুঙ্গি কাছা দিয়ে পরা বাঙালি বীর সন্তানদের নিকট অসম যুদ্ধের প্রতিটি রণাঙ্গনে নাস্তানাবুদ হয়ে অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে।

৫৫। দেশবাসী নিশ্চয়ই জানেন ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে যাওয়ার আগে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন ধরনের অনেক শলাপরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঐদিন সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউবা কিছুটা সময় দেয়ার জন্য তথা বিলম্ব করার মাধ্যমে কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করার নিমিত্তে পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তিনি কোন নেতা কিংবা কর্মীর পরামর্শ মোতাবেক কোন বক্তব্য কিংবা বিবৃতি প্রদান না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সুদীর্ঘ সংগ্রাম মুখর জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে যা যা তিনি বিশ্বাস করেন এবং তাঁর কাছে যা যা সমীচীন বলে মনে হয় শুধুমাত্র সেই সব কথাগুলিই তাঁর ভাষণে উল্লেখ করার জন্য তিনি (ফজিলাতুন্নেসা মুজিব) পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর এহেন সুচিন্তিত পরামর্শ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ ছিল বলে আজ সবাই অকুণ্ঠ চিত্তে স্বীকার করেন।

৫৬। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের অনেক ত্যাগী এবং বিখ্যাত নেতৃবৃন্দের পরামর্শ না শুনে বঙ্গমাতার অত্যন্ত সহজ সরল কথা মেনেই বঙ্গবন্ধু তাঁর উপরোক্ত কালজয়ী ভাষণটি দিয়েছেন। এহেন যুগান্তকারী ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা এবং তাদেরকে যুগ যুগ ধরে নির্যাতন ও নিপীড়নের অনুপম চিত্র অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এরই পাশাপাশি মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এই মর্মে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছেন। স্বীকৃত মতেই বঙ্গবন্ধু একজন তুখোড়, বিদগ্ধ এবং পোড় খাওয়া রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। কিন্তু তিনি কোন কবি ছিলেন না এবং কোন সমরবিদ ও ছিলেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর ভাষণের সামগ্রিক বক্তব্যসমূহ এবং শব্দচয়ন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী, কাব্যিক এবং প্রচণ্ড রকমের ছন্দময়। উপরন্তু এই ভাষণে তিনি একজন সমরবিদের মতো অত্যাসন্ন গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং উক্ত যুদ্ধের কলাকৌশল অম্লান বদনে এবং অবলীলাক্রমে বর্ণনা করেছেন। আর তাই এই ভাষণের মাধ্যমেই বাঙালি জাতির জন্য বিশ্বসভায় রচিত হয়েছে অনবদ্য ইতিহাস।

৫৭। আমাদের সামগ্রিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির জন্য মুক্তির মহাসড়ক। এই ঐতিহাসিক ভাষণই ছিল প্রচ্ছন্নভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা। কিন্তু এই ঘোষণা বঙ্গবন্ধু এমনভাবে প্রদান করেছেন যে, তাঁকে কোনভাবেই অভিযুক্ত করা যাচ্ছে না। এমনকি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার কোন অপবাদ ও দেয়া যাচ্ছে না। আর ঠিক একারণেই এই ভাষণের অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য, মাধুর্য এবং সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য চিন্তাশীল মানুষদের জন্য বিস্ময়ের বিষয়। এই ভাষণের পরের দিন থেকেই শুরু হয়েছে লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন। এই ভাষণ থেকেই বাঙালি খুঁজে পেয়েছে মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। আর এই যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতিই হচ্ছে আমাদের মহান স্বাধীনতা। এরই পাশাপাশি এই ভাষণের মাধ্যমেই ব্যর্থ হয়ে যায় দূরদর্শী মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে প্রতিপন্ন করার নিমিত্তে
পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের দীর্ঘদিনের কূটচাল, অপপ্রয়াস এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। তদস্থলে দেশবাসীর হৃদয়ে এবং মননে প্রতিষ্ঠিত হয় মহান মুজিবের Charismatic নেতৃত্বের সাফল্য, বুদ্ধিমত্তা এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব।

৫৮। ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে দেশে-বিদেশে ইতিমধ্যে অনেক লেখা বেরিয়েছে। অগণিত বই-পুস্তক রচনা করা হয়েছে। অনেক গল্প, কবিতা এবং গান ও রচনা করা হয়েছে। এই ভাষণ ঐতিহাসিক, কালজয়ী এবং নান্দনিক দলিল হিসেবে বিশ্ব সভায় ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং সমাদৃত হয়েছে। এই ভাষণের জাদুকরী প্রভাবে গোটা বাঙালি জাতি সকল প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে, পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলে এবং সকল প্রকার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই কালোত্তীর্ণ ভাষণকে বাঙালি জাতির মুখবন্ধ হিসেবে দেশের আপামর জনসাধারণ যথারীতি মেনেও নিয়েছেন। সবাই জানেন রেসকোর্সের উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তেজোদীপ্ত কণ্ঠে পৃথিবী কাঁপানো ভাষণ দিতে গিয়েও বঙ্গবন্ধু কোন প্রকার ফুটনোট কিংবা কোন স্ক্রিপ্ট দেখে নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। তাই সারা পৃথিবীর নিপীড়িত জাতি গোষ্ঠীর মুক্তি সংগ্রামের পথিকৃৎ এবং দিক নির্দেশনা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ চির ভাস্বর, চির অম্লান। বঙ্গবন্ধুর কট্টর বিরোধীরাও জানেন, মহান মুজিবের জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। আর বাংলাদেশ সৃষ্টি না হলে আজ যার যেখানে অবস্থান কেউই সেখানে আসতেও পারতেন না। তাই বাঙালি জাতির ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন দিবসের পাশাপাশি ৭ই জুন এবং ৭ই মার্চ যিনি বা যারা মানেন না কিংবা স্বীকার করেন না তারা মনে প্রাণে দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন কিনা তা একনিষ্ঠ মনে ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

৫৯। সারা বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ইতিপূর্বে বিশ্বের বহু বরেণ্য এবং প্রাতঃস্মরণীয় নেতৃবৃন্দ এবং রাষ্ট্রনায়কগণ তাদের নিজ নিজ দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়ে স্মরণীয় এবং বরণীয় হয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, আমারিকার বর্ণবাদ বিরোধী কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং, গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, দক্ষিণ আফ্রিকার
অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা অন্যতম। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, উপরোল্লিখিত প্রথিতযশা সকল নেতৃবৃন্দই সীমিত পরিসরে এবং স্বল্প সংখ্যক শ্রোতামণ্ডলীর উপস্থিতিতে সুলিখিত, সুচিন্তিত এবং দীর্ঘদিনের গবেষণালব্ধ ভাষণ প্রদান করেছেন। অর্থাৎ উপরোক্ত নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউই কোন অলিখিত কিংবা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অথবা বৃহত্তর পরিসরে তথা বিশাল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কিংবা অলিখিত কোন ভাষণ দেননি। অর্থাৎ স্বীকৃত মতেই উপরোক্ত প্রাতঃস্মরণীয় সকল নেতৃবৃন্দই তুলনামূলকভাবে অনেক সীমিত পরিসরে এবং স্বল্প সংখ্যক লোকজন তথা শ্রোতা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে সুলিখিত ভাষণ দিয়েছেন।

৬০। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ Jakob F. Field -এর সম্পাদনায় পৃথিবীর সেরা এবং যুগান্তকারী ভাষণগুলি থেকে বাছাই করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কালোত্তীর্ণ ভাষণ নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী Sir Winston Churchill কর্তৃক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রদত্ত We Shall Fight on the Beaches: The Speeches that Inspired History -নামক ভাষণটির আলোকে এই সংকলনটির নামকরণ করা হয়েছে।
উপরোক্ত সংকলনটির সম্পাদক গ্রেট ব্রিটেনের নাগরিক বিধায় তার দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটির শিরোনামেই উক্ত গ্রন্থটির নামকরণ করা হয়েছে বলে বিবেচিত হয়। মোট ২২৩ পৃষ্ঠার এই বইটির শেষ ভাষণটি হচ্ছে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Ronald Regan -এর Tears Down Wall. এই বইয়ের ২০১ নং পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণটি –“The struggle this time is the struggle for Independence” শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ড. মোঃ ফজলুর রহমান,সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অব:), লেখক ও কলামিস্ট 

(চলবে)

বি/ ইবিটাইমস/ এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »