ফলোআপ লঞ্চ ট্রাজেডি
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনায় শুক্রবারের পর থেকে তিনদিন বিরতির পরে সোমবার থেকে ঘটনা স্থল ও আশেপাশের নদীতে লাশ ভেসে উঠতে শুরু করেছে। অভিযান চালু থাকলেও বৃহস্পতিবার কোন মৃতদেহ উদ্ধার হয় নি।
বুধবার উদ্ধার হওয়া দু জনের লাশ তাদের পরিবার শনাক্ত করতে পেরেছে এবং মৃতদেহ নিকট স্বজনদের কাছে বুধবার রাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পুরুষ ব্যাক্তির নাম মো: আব্দুল হক মিয়া (৩৫) । তার বাড়ী নরসিংদি জেলার রামপুর উপজেলার হাইমারা গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত ফজলুল হক। মো: আব্দুল হক মিয়া ঢাকা ব্যবসা করতো। ঘটনার দিন তিনি তার শ্বশুরবাড়ী বরগুনা সদর উপজেলার বুরির চর ইউনিয়নে ছনবুনিয়া গ্রামে।
পুলিশ মৃতদেহ তার স্ত্রী রোকেয়া আক্তারের কাছে হস্তান্তর করেছে। অপর মহিলার নাম শিমু(২৫) সে বরগুণা জেলার খাজুর তলার মো: আজিজ হাওলাদারের কন্যা। শিমু তার মা দুলু বেগম ও ২ জমজ কন্যা লামিয়া (৪) ও সামিয়া (৪) নিয়ে পিত্রালয়ে যাচ্ছিল। লঞ্চ দুর্ঘটনায় তার মা দুলু বেগম জীবিত উদ্ধার হয়েছে এবং বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং বুধবার তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ও তার শিশু কন্যা ২টি মৃত অবস্থায় ঘটনার পর লঞ্চ থেকে উদ্ধার হয়েছে। তাকে শনাক্ত করার পরে এদের গ্রামের বাড়ী দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু শিমু বেগম নিখোজ ছিল। তার ভাই হান্নান হাওলাদার শনাক্ত করার পরে তার কাছে রাতে হস্তান্তর করা হয়। শিমুর সাত বছর পূর্বে বিবাহ হয়েছিল শেরপুর জেলায় জনৈক রফিকুল ইসলামের সাথে। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে গিয়ে যৌতুকলোভী স্বামীর নিযার্তনের শিকার হন। এক পযার্য়ে অন্ত:সত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর দাবি করা ৫০ হাজার টাকা দিতে না পারায় শিমু গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে। এক পযার্য়ে জমজ কন্যা সন্তান জন্ম নেয় এবং সে ঢাকায় তার বোনেদের আশ্রয়ে ছিল। এক মাস পূর্বে তার স্বামী ঢাকায় তার বোনের কাছ থেকে তাকে আর নিযার্তন করবে না ওয়াদা করে শেরপুর নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে ২০ দিন থাকার পরে স্বামীর অত্যাচারে পুনরায় তাকে ঢাকায় তার বোনের বাড়ী চলে আসতে হয়েছিল।
এই ঘটনার দিন সে তার মা ও কন্যা সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ী যাচ্ছিল।সুমি বেগমের এই যৌতুকলোভী স্বামীর সংসারে বিষাদময় জীবনের কাহিনী কান্নাজড়িত কন্ঠে বর্ননা করেছেন তার ভাই মো: হান্নান হাওলাদার।এই নিয়ে ঝালকাঠিতে নিখোজ ৫ জনের লাশ উদ্ধার হল।
লঞ্চ দুর্ঘটনার দিন ৩৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল এবং নিখোজ ৫ জনের উদ্ধারের পরে এই সংখ্যা স্থানীয়ভাবে ৪২ এসে দাড়ায়। এর বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা ও বরিশালে মৃতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
পুলিশের কন্ট্রোল রুমের হিসেব অনুযায়ী নিখোজ ব্যাক্তিদের আত্মীয় স্বজন ৪১ জনের তালিকা রেখেছে। ঝালকাঠি শহরে নিখোজ থাকা ব্যাক্তিদের স্বজনরা বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় হোটেলে অবস্থান করছে এবং লাশ উদ্ধার হলে তার মধ্যে নিখোজ স্বজন আছে কিনা তা দেখতে ছুটে আসছে।
বাধন রায় /ইবিটাইমস