ভিয়েনা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি পাবে শিক্ষার্থীরা, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে লিবিয়া থেকে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক লালমোহনে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চরফ্যাশনে কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন টেস্টে ৭ হাজার রানের মাইলফলকের সামনে মুশফিক, প্রয়োজন আর ৪৩ রান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন দিন ৩১ অক্টোবর

আর কত বয়স হইলে বয়ষ্ক ভাতা পাইমু

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১
  • ২২৭ সময় দেখুন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলা:“আমি আর কত বয়স হইলে বয়ষ্ক ভাতা পাইমু। এমনে আর চলতে পারি না।” কাতর কণ্ঠে ইউরোবাংলা টাইমসের প্রতিনিধিকে দেখে কথাগুলো বলছিলেন ১০৫ বছরের বৃদ্ধ মো. সৈয়দ আহমেদ।

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী এলাকার বছুরুদ্দীন বাড়ি তার। এতো বছর বয়সেও সৈয়দ আহমেদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোনো সহযোগিতা। হতদরিদ্র সৈয়দ আহমেদ থাকেন হোগলা পাতার ছাউনি দেয়া একটি ঘরে। যার ভেতর নেই চৌকি, মাটিতেই ঘুমাতে হয় তাকে। কোনো শীতবস্ত্র না থাকায় তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিনি। অসহায় হওয়ার পরেও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নজরে পড়েননি সৈয়দ আহমেদ। সে কারণেই হয়তো ১০৫ বছরেও সৈয়দ আহমদের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা বা সরকারি সহযোগিতা।

তিন ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জনক তিনি। দিনমজুরের কাজ আর প্রতিবেশীদের সহযোগিতা নিয়ে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে থাকলেও বিয়ে করে ভিন্ন সংসার পেতেছেন। যে যার মতো ব্যস্ত নিজেদের সংসার নিয়ে। সবকিছুর পরেও ছেলে ইউনূছ ও আব্দুল আলী ইটভাটায় কাজ করে নিজেদের সংসারের খরচ মিটানোর পরে বাবাকে কোনো মতে তিন বেলা খাওয়াচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে তাদের বাবা কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ তারাও।

তাদের প্রশ্ন আর কতো বয়স হলে তার বাবার ভাগ্যে সরকারি সহযোগিতা জুটবে। সৈয়দ আহমদের ছোট ছেলে মো. ইউনূছ বলেন, বাবা কানে শুনতে পান না। আবার এখন বয়স হয়েছে, তাই বয়সের ভারে চলতেও পারেন না ঠিকমত। আমরা যা রোজগার করি তা দিয়ে নিজেদের পরিবার নিয়ে চলতেই কষ্ট হয়। তবুও চেষ্টা করি বাবাকে অন্তত তিন বেলা খাওয়াতে। তবে অনেক সময় পারি না। বাবা যে ঘরে থাকে তা মানুষ কেন- গোয়াল ঘর হিসাবেও ব্যবহার করার উপযুক্ত নয়। যেখানে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে ঘরের ভেতরে। তবুও বাঁচার জন্য সেখানেই থাকছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তানদের দাবি বাবাকে একটি ঘর ও বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদানের।

সাব্বির বাবু/ইউবি টাইমস/আরএন/০৭.০১.২১

Tag :

লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

আর কত বয়স হইলে বয়ষ্ক ভাতা পাইমু

আপডেটের সময় ১১:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

সাব্বির আলম বাবু, ভোলা:“আমি আর কত বয়স হইলে বয়ষ্ক ভাতা পাইমু। এমনে আর চলতে পারি না।” কাতর কণ্ঠে ইউরোবাংলা টাইমসের প্রতিনিধিকে দেখে কথাগুলো বলছিলেন ১০৫ বছরের বৃদ্ধ মো. সৈয়দ আহমেদ।

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী এলাকার বছুরুদ্দীন বাড়ি তার। এতো বছর বয়সেও সৈয়দ আহমেদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোনো সহযোগিতা। হতদরিদ্র সৈয়দ আহমেদ থাকেন হোগলা পাতার ছাউনি দেয়া একটি ঘরে। যার ভেতর নেই চৌকি, মাটিতেই ঘুমাতে হয় তাকে। কোনো শীতবস্ত্র না থাকায় তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিনি। অসহায় হওয়ার পরেও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নজরে পড়েননি সৈয়দ আহমেদ। সে কারণেই হয়তো ১০৫ বছরেও সৈয়দ আহমদের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা বা সরকারি সহযোগিতা।

তিন ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জনক তিনি। দিনমজুরের কাজ আর প্রতিবেশীদের সহযোগিতা নিয়ে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে থাকলেও বিয়ে করে ভিন্ন সংসার পেতেছেন। যে যার মতো ব্যস্ত নিজেদের সংসার নিয়ে। সবকিছুর পরেও ছেলে ইউনূছ ও আব্দুল আলী ইটভাটায় কাজ করে নিজেদের সংসারের খরচ মিটানোর পরে বাবাকে কোনো মতে তিন বেলা খাওয়াচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে তাদের বাবা কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ তারাও।

তাদের প্রশ্ন আর কতো বয়স হলে তার বাবার ভাগ্যে সরকারি সহযোগিতা জুটবে। সৈয়দ আহমদের ছোট ছেলে মো. ইউনূছ বলেন, বাবা কানে শুনতে পান না। আবার এখন বয়স হয়েছে, তাই বয়সের ভারে চলতেও পারেন না ঠিকমত। আমরা যা রোজগার করি তা দিয়ে নিজেদের পরিবার নিয়ে চলতেই কষ্ট হয়। তবুও চেষ্টা করি বাবাকে অন্তত তিন বেলা খাওয়াতে। তবে অনেক সময় পারি না। বাবা যে ঘরে থাকে তা মানুষ কেন- গোয়াল ঘর হিসাবেও ব্যবহার করার উপযুক্ত নয়। যেখানে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে ঘরের ভেতরে। তবুও বাঁচার জন্য সেখানেই থাকছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তানদের দাবি বাবাকে একটি ঘর ও বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদানের।

সাব্বির বাবু/ইউবি টাইমস/আরএন/০৭.০১.২১