ভিয়েনা ০২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর জনগণ হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে : প্রধানমন্ত্রী ৪৩তম ভিয়েনা সিটি ম্যারাথনে জয়ী হয়েছেন কেনিয়ার ফ্যানি কিপ্রোটিচ স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা হলে দেশে উগ্রবাদ থাকবে না : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত শাহপরান ফেরি থেকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ৪ জন আটক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, চূড়ান্ত চুক্তি এখনো দূরে: ইরানের স্পিকার বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় রাত ৩টা পর্যন্ত অফিসিয়াল কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

অস্ট্রিয়ায় করোনার চতুর্থ তরঙ্গে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৯:০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১
  • ৫৬ সময় দেখুন

ক্লাশ রুম ব্যতীত স্কুলের সর্বত্র মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক এবং সপ্তাহে তিনবার করোনার পরীক্ষা

ইউরোপ ডেস্কঃ আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের তিন রাজ্য ভিয়েনা,লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং বুর্গেনল্যান্ডে স্কুল খুলছে। আর বাকী ছয় রাজ্যে খুলছে এক সপ্তাহ পর। অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, আজ রাজধানী ভিয়েনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান (ÖVP) করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই স্কুল সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা ঘোষণা এবং কিছু নিয়মাবলী উপস্থাপন করেছেন। আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন (Grüne)।

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ায় শিক্ষক এবং অভিভাবকরা নতুন স্কুল বছর শুরুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান অস্ট্রিয়ান সরকারের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে স্কুল খোলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান,স্কুল খোলার প্রথম দুই সপ্তাহকে প্রাথমিক “সুরক্ষা পর্ব” ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া থাকলেও ছাত্র-শিক্ষক সকলকে ক্লাশ রুম ব্যতীত স্কুলের সীমানার মধ্যে বাধ্যতামূলক নাক ও মুখের সুরক্ষার মাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে।এই সময়ের মধ্যে স্কুলের প্রতিটি ক্লাশে সপ্তাহে তিনবার ফ্রি করোনার এন্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। তবে যাদের করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নেয়া আছে তাদের ব্যতীত।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন,এরপরে দেশব্যাপী বিদ্যমান ৩-জি নিয়ম অনুসরণ করা হবে, যার অর্থ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার জন্য টিকা, পুনরুদ্ধার বা নেতিবাচক (নেগেটিভ)পরীক্ষার প্রমাণ দেখাতে হবে।তবে তিনি জানিয়েছেন যে, শিক্ষকদের জন্য করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক না।

স্কুল কিভাবে এই নতুন নিয়ম কাজ করবে?

সেপ্টেম্বরে শুরু নতুন শিক্ষা বছরের প্রথম দুই সপ্তাহে, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়কেই প্রতি সপ্তাহে তিনটি কোভিড -১৯ পরীক্ষা দিতে হবে।  তার মধ্যে একটি অবশ্যই পিসিআর পরীক্ষা হতে হবে। অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক Kronen Zeitung এর মতে, আশা করা হচ্ছে সোমবার ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুলে একটি নাসিকা(নাক) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং একটি পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু হবে।  উভয় পরীক্ষার কারণ হল একটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল প্রায় ১৫ মিনিট সময় নেয়, কিন্তু পিসিআর পরীক্ষা প্রায় ২৪ ঘন্টা সময় নিতে পারে।

স্কুলের জন্য পিসিআর পরীক্ষার ফলাফল ৭২ ঘন্টার জন্য বৈধ, তাই কর্মীদের এবং ছাত্রদের বৃহস্পতিবার আরেকটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা দিতে হবে। দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্কুলগুলিতে ৩-জি নিয়ম চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য, লালা নমুনার মাধ্যমে “থুতু পরীক্ষা” সহ স্কুলে অ্যান্টিজেন এবং পিসিআর উভয় পরীক্ষা করা যেতে পারে।

শিক্ষকদের একটি বহিরাগত পিসিআর পরীক্ষা উপস্থাপন করতে হবে, যা সারা দেশে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরিচালিত হতে পারে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকগণ ফলাফল সংগ্রহ এবং শ্রেণী শিক্ষকদের অবহিত করার জন্য দায়ী থাকবেন, যারা তখন শিক্ষার্থীদের অবহিত করবেন। টিকার অবস্থা সহ নিনজা পাসে নেতিবাচক পরীক্ষার ফলাফল প্রবেশ করা হবে। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় শিশুরা ১২ বছর বয়স থেকেই ফাইজারের  টিকা নেয়ার অনুমতি পেয়েছে।করোনার নিনজা পাস স্কুলের বাচ্চাদের আতিথেয়তা স্থান এবং খেলাধুলার সুবিধা, যেমন সুইমিং পুল এবং সিনেমা দেখার সুযোগ দিবে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগা মুকস্টাইন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,স্কুলের পাঠদান নিশ্চিত ও নিরাপদে শুরু করার জন্য আমাদের একসাথে  সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক মহামারীর শুরু থেকে,আমাদের লক্ষ্য বিশেষত দুর্বল গোষ্ঠীকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।  একসাথে আমরা এখন পর্যন্ত হাজার হাজার জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। এটি বিশেষত শিশু এবং যুবকরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে করোনার প্রতিষেধক টিকার জন্য অপেক্ষমান ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন কেননা আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে করোনার প্রতিষেধক টিকা আছে। এখন দেশে ১২ বছর থেকেই করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। তবে ১২ বছরের নীচের শিশুদের টিকা এখনও অনুমোদিত হয়নি।  আমাদের এখন একসাথে একে অপরের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে এবং দেশ জুড়ে স্কুল বন্ধ হওয়া রোধ করতে হবে।

এই লক্ষ্যে, শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান এবং আমি আজ স্কুল শুরুর জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি, যার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বিস্তারিত বিবরণ সমর্থন করেছে।  এই পরিকল্পনা স্কুলের শুরুতে একটি নিরাপত্তা পর্যায়ে পরীক্ষার উপর নির্ভর করে এবং তারপর পূর্বনির্ধারিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সহ ৩-জি পর্যায়ের ঝুঁকি ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে।  সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, করোনা কমিশন শ্রেণীভুক্ত করবে এবং AGES – অস্ট্রিয়ান এজেন্সি ফর হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি স্কুলের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।

এই মুহুর্তে আমি আবারও বলতে চাই: যদি আপনি এখনও সুরক্ষিত না হন, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অসংখ্য, নিম্ন-প্রান্তিক ভ্যাকসিনেশন অফারগুলির মধ্যে একটি ব্যবহার করুন, অনুগ্রহ করে স্কুল শুরু হওয়ার আগে!  যাতে আমরা নিরাপদে একটি নতুন স্কুল বছর শুরু করতে পারি। আমি এই আবেদনটি বিশেষভাবে আপনার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যেও বলছি: ১২ বছর বয়স থেকে।  টিকা নিন – এটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সামগ্রিকভাবে স্কুল এবং সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১,৫৭৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৭৭ জন।অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৩৭৪ জন, NÖ রাজ্যে ২২১ জন, Steiermark রাজ্যে ১৭৬ জন, Salzburg রাজ্যে ১৭১ জন, Tirol রাজ্যে ১১০ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৭৭ জন, Kärnten রাজ্যে ৫৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৯ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১৭,৫৪১ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট দেয়া হয়েছে ১,০৩,৫৭,৫৭৯ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫১ লাখ ৪২ হাজার ৩৬৬ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৭,৫৭ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৮০,১৭৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭৭০ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৬,৫৬,০১৬ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৩,৩৯৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৮৬ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪১৭ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস /এম আর

Tag :
জনপ্রিয়

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

অস্ট্রিয়ায় করোনার চতুর্থ তরঙ্গে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপন

আপডেটের সময় ০৯:০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১

ক্লাশ রুম ব্যতীত স্কুলের সর্বত্র মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক এবং সপ্তাহে তিনবার করোনার পরীক্ষা

ইউরোপ ডেস্কঃ আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের তিন রাজ্য ভিয়েনা,লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং বুর্গেনল্যান্ডে স্কুল খুলছে। আর বাকী ছয় রাজ্যে খুলছে এক সপ্তাহ পর। অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, আজ রাজধানী ভিয়েনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান (ÖVP) করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই স্কুল সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা ঘোষণা এবং কিছু নিয়মাবলী উপস্থাপন করেছেন। আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন (Grüne)।

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ায় শিক্ষক এবং অভিভাবকরা নতুন স্কুল বছর শুরুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান অস্ট্রিয়ান সরকারের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে স্কুল খোলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান,স্কুল খোলার প্রথম দুই সপ্তাহকে প্রাথমিক “সুরক্ষা পর্ব” ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া থাকলেও ছাত্র-শিক্ষক সকলকে ক্লাশ রুম ব্যতীত স্কুলের সীমানার মধ্যে বাধ্যতামূলক নাক ও মুখের সুরক্ষার মাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে।এই সময়ের মধ্যে স্কুলের প্রতিটি ক্লাশে সপ্তাহে তিনবার ফ্রি করোনার এন্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। তবে যাদের করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নেয়া আছে তাদের ব্যতীত।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন,এরপরে দেশব্যাপী বিদ্যমান ৩-জি নিয়ম অনুসরণ করা হবে, যার অর্থ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার জন্য টিকা, পুনরুদ্ধার বা নেতিবাচক (নেগেটিভ)পরীক্ষার প্রমাণ দেখাতে হবে।তবে তিনি জানিয়েছেন যে, শিক্ষকদের জন্য করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক না।

স্কুল কিভাবে এই নতুন নিয়ম কাজ করবে?

সেপ্টেম্বরে শুরু নতুন শিক্ষা বছরের প্রথম দুই সপ্তাহে, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়কেই প্রতি সপ্তাহে তিনটি কোভিড -১৯ পরীক্ষা দিতে হবে।  তার মধ্যে একটি অবশ্যই পিসিআর পরীক্ষা হতে হবে। অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক Kronen Zeitung এর মতে, আশা করা হচ্ছে সোমবার ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুলে একটি নাসিকা(নাক) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং একটি পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু হবে।  উভয় পরীক্ষার কারণ হল একটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল প্রায় ১৫ মিনিট সময় নেয়, কিন্তু পিসিআর পরীক্ষা প্রায় ২৪ ঘন্টা সময় নিতে পারে।

স্কুলের জন্য পিসিআর পরীক্ষার ফলাফল ৭২ ঘন্টার জন্য বৈধ, তাই কর্মীদের এবং ছাত্রদের বৃহস্পতিবার আরেকটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা দিতে হবে। দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্কুলগুলিতে ৩-জি নিয়ম চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য, লালা নমুনার মাধ্যমে “থুতু পরীক্ষা” সহ স্কুলে অ্যান্টিজেন এবং পিসিআর উভয় পরীক্ষা করা যেতে পারে।

শিক্ষকদের একটি বহিরাগত পিসিআর পরীক্ষা উপস্থাপন করতে হবে, যা সারা দেশে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরিচালিত হতে পারে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকগণ ফলাফল সংগ্রহ এবং শ্রেণী শিক্ষকদের অবহিত করার জন্য দায়ী থাকবেন, যারা তখন শিক্ষার্থীদের অবহিত করবেন। টিকার অবস্থা সহ নিনজা পাসে নেতিবাচক পরীক্ষার ফলাফল প্রবেশ করা হবে। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় শিশুরা ১২ বছর বয়স থেকেই ফাইজারের  টিকা নেয়ার অনুমতি পেয়েছে।করোনার নিনজা পাস স্কুলের বাচ্চাদের আতিথেয়তা স্থান এবং খেলাধুলার সুবিধা, যেমন সুইমিং পুল এবং সিনেমা দেখার সুযোগ দিবে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগা মুকস্টাইন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,স্কুলের পাঠদান নিশ্চিত ও নিরাপদে শুরু করার জন্য আমাদের একসাথে  সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক মহামারীর শুরু থেকে,আমাদের লক্ষ্য বিশেষত দুর্বল গোষ্ঠীকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।  একসাথে আমরা এখন পর্যন্ত হাজার হাজার জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। এটি বিশেষত শিশু এবং যুবকরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে করোনার প্রতিষেধক টিকার জন্য অপেক্ষমান ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন কেননা আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে করোনার প্রতিষেধক টিকা আছে। এখন দেশে ১২ বছর থেকেই করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। তবে ১২ বছরের নীচের শিশুদের টিকা এখনও অনুমোদিত হয়নি।  আমাদের এখন একসাথে একে অপরের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে এবং দেশ জুড়ে স্কুল বন্ধ হওয়া রোধ করতে হবে।

এই লক্ষ্যে, শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান এবং আমি আজ স্কুল শুরুর জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি, যার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বিস্তারিত বিবরণ সমর্থন করেছে।  এই পরিকল্পনা স্কুলের শুরুতে একটি নিরাপত্তা পর্যায়ে পরীক্ষার উপর নির্ভর করে এবং তারপর পূর্বনির্ধারিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সহ ৩-জি পর্যায়ের ঝুঁকি ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে।  সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, করোনা কমিশন শ্রেণীভুক্ত করবে এবং AGES – অস্ট্রিয়ান এজেন্সি ফর হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি স্কুলের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।

এই মুহুর্তে আমি আবারও বলতে চাই: যদি আপনি এখনও সুরক্ষিত না হন, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অসংখ্য, নিম্ন-প্রান্তিক ভ্যাকসিনেশন অফারগুলির মধ্যে একটি ব্যবহার করুন, অনুগ্রহ করে স্কুল শুরু হওয়ার আগে!  যাতে আমরা নিরাপদে একটি নতুন স্কুল বছর শুরু করতে পারি। আমি এই আবেদনটি বিশেষভাবে আপনার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যেও বলছি: ১২ বছর বয়স থেকে।  টিকা নিন – এটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সামগ্রিকভাবে স্কুল এবং সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১,৫৭৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৭৭ জন।অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৩৭৪ জন, NÖ রাজ্যে ২২১ জন, Steiermark রাজ্যে ১৭৬ জন, Salzburg রাজ্যে ১৭১ জন, Tirol রাজ্যে ১১০ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৭৭ জন, Kärnten রাজ্যে ৫৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৯ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১৭,৫৪১ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট দেয়া হয়েছে ১,০৩,৫৭,৫৭৯ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫১ লাখ ৪২ হাজার ৩৬৬ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৭,৫৭ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৮০,১৭৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭৭০ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৬,৫৬,০১৬ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৩,৩৯৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৮৬ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪১৭ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস /এম আর