মহাকাশে সাদা ধবধবে বামন তারা বা নক্ষত্র

নিউজ ডেস্কঃ মহাকাশে সবচেয়ে ঠান্ডা তারা আবিষ্কার! নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে ঠান্ডা সাদা বামন তারা খুজে পাওয়ার কথা জানান যার তাপমাত্রা মাত্র ৩০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস যেখানে পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৬০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস অর্থাৎ তারাটির তপামাত্রা পৃথিবীর কেন্দ্র থেকেও অর্ধেক। অত্যাধিক ঠান্ডা হওয়ার দরুন এই তারা সূর্য বা অন্যান্য তারার মত ততোটা উজ্জ্বল নয়।পার্শববর্তী পালসারকে (নিউট্রন তারা) কেন্দ্র করে আবর্তনকারী এই বামন তারাটি এতোটাই ঠান্ডা যে, এর মধ্যকার কার্বন পরমানু জমে তারাটিকে একটি হীরায় পরিনত হয়েছে।

এই অপরিপক্ক তারা বা নক্ষত্র আমাদের পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের চেয়ে সামান্য একটু বড়। এই নতুন আবিষ্কৃত বামন তারার ব্যাসার্ধ প্রায় ২,১০০ কিলোমিটার। আর আমাদের পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের ব্যাসার্ধ প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার। তাছাড়াও মহাকাশে আরও কিছু বামন তারা আছে যারা পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি।

গত ২৮ শে জুন একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ক্যালটেকের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইলরিয়া কায়াজো বলেছেন, “এই সাদা বামনের একমাত্র আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য নয় যে এটি একটি হীরার খন্ডের মতই

মহাকাশে জ্বলজ্বল করছে,এটি নিজ কক্ষপথে অতি দ্রুত ঘুরছে”। সাদা এই বামন তারাটি প্রতি সাত মিনিটে একবার নিজের অক্ষের ওপর ঘুরে এবং এর একটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র রয়েছে, যা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় এক বিলিয়নেরও বেশি গুণ।  কায়াজো এবং তার সহকর্মীরা অসাধারণ আবিষ্কার এই বামন তারার নামকরণ করেছেন ZTF J1901+1458। এটি আমাদের মাতৃ গ্রহ পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

আলো এক বছরের যে পথ অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলা হয়। আলো সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ (এক লক্ষ ছিয়াসি হাজার) মাইল বা ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) কি:মি গতিতে ছুটে চলে। এই গতিতে ছুটে চলে সূর্যের আলোর পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। অর্থাৎ আলোর ১৫০.৬৯ মিলিয়ন কি:মি: (সূর্য থেকে পৃথিবীর দুরত্বের) পথ অতিক্রম করতে এই সময় লাগে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পালোমার অবজারভেটরিতে জুইকি ট্রান্সিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করে পৃথিবীর থেকে প্রায় ১৩০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই সাদা ধবধবে বামন তারাটি আবিষ্কার করেন। এই বামন তারাটি আসল একটি হীরার খন্ড,কেননা এখানে অনবরত হীরার বৃষ্টি ও ঝড় সংগঠিত হচ্ছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দলটি ধারণা করছেন সাদা বামন তারাটি প্রথমে সম্ভবত যখন গঠিত হয়েছিল তখন দুটি সাদা বামন একে অপরকে প্রদক্ষিণ করেছিল এবং একক সাদা বামনকে একটি অতিরিক্ত-বৃহত্তর ভর এবং অতিরিক্ত-ছোট আকারের সাথে তৈরি করতে একত্রে মিশে একটিতে পরিণত হয়ে গেছে। দুইটি নক্ষত্রের একীভূত হওয়ার কারনে এই সাদা বামন তারাটির চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এতো বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দলটি আরও জানান, এই সাদা বামন তারাটি যদি আরও বেশি বিশাল আকার ধারণ করে, তবে এটি নিজের ওজনকে সমর্থন করতে পারবে না এবং তখন বিস্ফোরিত হবে। এই জাতীয় বস্তু অধ্যায়ন বিজ্ঞানীদের এই মৃত তারার পক্ষে কি কি সম্ভব তার সীমাবদ্ধতা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ মহাকাশে তারার মৃত্যুর কারন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স নিউজ ম্যাগাজিন

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »