স্পোর্টস ডেস্কঃ বিশ্ব টেনিসের সবচেয়ে জাঁকজমক টুর্নামেন্ট ফরাসী ওপেন টেনিসের শিরোপা জিতলেন বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। এটি তার ফরাসী ওপেন টেনিসের দ্বিতিয় শিরোপা লাভ। ইতিপূর্বে তিনি ২০১৯ সালেও ফরাসী ওপেনের শিরোপা লাভ করেছিলেন।
রবিবার ১৩ জুন প্যারিসে এক উত্তেজনা পূর্ণ ফাইনালে তিনি গ্রিসের স্টেফানোস চিচিপাসকে ৬-৭ (৬-৮), ২-৬, ৬-৩, ৬-৩, ৬-৪ সেটে পরাজিত করেন। খেলার শেষ ম্যাচ পয়েন্টটা পকেটে পুরে ডানহাতকে মুষ্টিবদ্ধ করে একবার খুব জোরে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তারপর জয় নিশ্চিত করে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলেন।
নোভাক জোকোভিচ ৫২ বৎসর বয়সে বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়ের খেতাব সহ দুই বার ফরাসী ওপেন টেনিসের শিরোপা ছাড়াও আরও ১৯ টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় রয়েছে তার ঝুড়িতে।
ফরাসী ওপেন টেনিসের পুরুষদের ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে আজ মাঠে উপস্থিত ছিলেন অনেক সাবেক ফরাসী ওপেন টেনিসের বিজয়ী। তাদের মধ্যে ছিলেন বিয়ন বর্গ ও জিম কুরিয়ার। আর দর্শকদের সারিতে ছিলেন দুই ফাইনালিস্টের পরিবারের লোকজন ও প্রশিক্ষকগণ। করোনার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন গ্রীস ও সার্বিয়ার পতকা বহন করা একাধিক সমর্থক। উত্তেজনা পূর্ণ এই ফাইনাল খেলাটি শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় দেড় ঘন্টা।
তবে এমন জয় পেয়েও প্রতিপক্ষ ২২ বছর বয়স্ক গ্রিসের স্টেফানোস চিচিপাসের খেলার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছেন,তাই পরিবার ও সমর্থকদের দিকে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে বিয়ন বর্গের হাত থেকে ট্রফি নিলেও বাড়তি উল্লাস দেখাননি তিনি। বরং প্রতিপক্ষ চিচিপাসের প্রশংসা করে জোকোভিচ বলেন, “বিয়ন বর্গ ও জিম কুরিয়ারের মতো মানুষের কাছ থেকে এই পুরস্কার নিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। কারণ এঁরাই তো আমাদের প্রিয় টেনিসকে সবার কাছে নিয়ে এসেছিলেন। তবে এখন শুধু চিসিপাসকে নিয়ে কথা বলতে চাই। আমি ওর মানসিক অবস্থা বেশ বুঝতে পারছি। কারণ আমিও এমন কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের খুব কাছে গিয়ে হেরে যাওয়া ও সেই হারকে মেনে নেওয়া খুব কঠিন। তবে এই হার কিন্তু তাকে ভবিষ্যতে শিক্ষা দেবে। আশা করি চিসিপাস ও ওর টিম এই হার থেকে শিক্ষা নেবে। আমি নিশ্চিত সে ভবিষ্যতে আরও অনেক গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতবে।”
অন্যদিকে ফরাসী ওপেনের ফাইনালে নোভাক জোকোভিচের কাছে হারের পর বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকার কীর্তিতে মুগ্ধ চিচিপাস। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেও প্রতিপক্ষের প্রতি মুগ্ধতা ঝরে পড়ছিল তাঁর কথায়। ম্যাচের পর পঞ্চম বাছাই গ্রিক টেনিস তারকা বলেন, ‘‘এই প্রতিযোগিতায় এত দূর আসতে পেরে আমি খুব খুশি। নোভাক গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে কেন সে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়। আমি বরাবর তার খেলার ভক্ত। জোকোভিচ যা করে দেখিয়েছে আমি তার অর্ধেক করতে পারলেও নিজেকে ধন্য মনে করব।’’
গ্রিসের টেনিস ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে চিচিপাস বলেন, ‘‘আমার খেলা দেখতে যাঁরা এসেছেন তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আমার দলের সদস্যদের ধন্যবাদ এতদিন ধরে আমার পাশে এই কঠিন সফরে থাকার জন্য। তাঁরাও অনেক খেটেছেন আমার জন্য।’’ প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠা চিচিপাস আরও বলেন, ‘‘পরের বার আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসে আরও ভাল খেলতে চাই।’’
কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস