ট্রাম্প ইউএস জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (জেএসওসি) কে আক্রমণ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রোববার (১১ জানুয়ারী) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গণমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করার জন্য তার বিশেষ বাহিনীর কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে,নতুন বছরের শুরুতেই গত ৩ জানুয়ারী ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করার জন্য ওয়াশিংটনের সাফল্যের পর এখন “মার্কিন রাষ্ট্রপতির চারপাশে বাজপাখি”, “রাশিয়া বা চীন কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই দ্বীপটি দখল করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায়,” ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (জেএসওসি) কে আক্রমণ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন, যুক্তি দিচ্ছেন যে এটি বেআইনি এবং কংগ্রেসের সমর্থনের অভাব রয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারী) গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা বলেছেন, “আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হতে চাই,” ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে আগ্রহ প্রকাশ করার মন্তব্যের পর।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা গ্রিনল্যান্ডে কিছু করতে যাচ্ছি, তারা তা পছন্দ করুক বা না করুক, কারণ আমরা যদি তা না করি, তাহলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করবে, এবং আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া বা চীন থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সহজ উপায়ে একটি চুক্তি করতে চাই, কিন্তু যদি আমরা এটি সহজ উপায়ে না করি, তাহলে আমরা এটি কঠিন উপায়ে করব।”
ট্রাম্পের মন্তব্য নিন্দার মুখে পড়েছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলি সতর্ক করে দিয়েছে যে এই পদক্ষেপের ফলে ন্যাটোর সমাপ্তি হতে পারে।
এক নজরে গ্রিনল্যান্ড: গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি সুবৃহৎ দ্বীপ যা ডেনমার্কের একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত অংশ হিসেবে স্বীকৃত। দ্বীপটির অধিকাংশই সুমেরীয় বৃত্তের উত্তর অংশে অবস্থিত। এটি পশ্চিম দিকে ডেভিস প্রণালী ও ব্যাফিন উপসাগর দ্বারা প্রাথমিকভাবে কানাডীয় সুমেরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পূর্ব দিকে ডেনমার্ক প্রণালী দ্বারা আইসল্যান্ড থেকে পৃথক হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ। এর সর্ব উত্তরের বিন্দু মরিস জেসাপ অন্তরীপ থেকে সর্ব দক্ষিণের বিন্দু ফেয়ারওয়েল অন্তরীপের দূরত্ব ২,৬৬০ কিমি (১,৬৫০ মাইল)। এটি এর সর্বাধিক বিস্তৃতি। অপরদিকে পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত সর্বাধিক দূরত্ব হচ্ছে ১,৩০০ কিমি (৮০০ মাইল)। এর সমগ্র উপকূলভূমি জুড়ে রয়েছে ফিয়র্ড যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৪,০০০ কিমি (২৭,০০০ মাইল)।
ভৌগোলিক অবস্হান মেরু অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে সূর্যের দেখা পাওয়া যায় মাত্র ৩ ঘণ্টা বা তার একটু বেশি কিংবা কম সময়। ফলে সেখানকার শীতকাল বা শৈত্যপ্রবাহকাল খুব দীর্ঘ সময় হয়ে থাকে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এক পরিবেশ যেনো কালো চাদরের মতো ঝুলে থাকে গোটা গ্রিনল্যান্ডে। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে এটা সাইবেরিয়া নয়, এই ঠাণ্ডা অন্ধকারাচ্ছন্ন দ্বীপেও লুকিয়ে রয়েছে বিচিত্র সব সৌন্দর্য্য।
সারা বছর বরফে ঢাকা থাকলেও গ্রীষ্মে বরফ কেটে গেলে দেশটির রূপ পাল্টে যায়। এমন ঘটনা যে কেবল উত্তর মেরু অঞ্চলেই ঘটে তা নয়, দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের অনেকটা অংশজুড়ে গ্রীষ্মে একটা নির্দিষ্ট সময় আক্ষরিক অর্থেই সূর্য ডুবতে দেখা যায় না। অদ্ভুত হলেও সত্য যে, তখন ২৪ ঘণ্টা সূর্য আলোরিত হয়। দিন-রাত তখন সমান থাকে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর



















