শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : ধনীদের টার্গেট করে বিয়ে ও তালাকের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার শিমুলতলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রহিমা খাতুন (৩০)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গুল্ল্যা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী তোফাজ্জল হোসেন তোফা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রহিমা খাতুনের মা ছোলেমা খাতুন ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেই সুবাদে হাজী তোফাজ্জল হোসেন তোফার ঢাকার উত্তরার হেলাল মার্কেট এলাকার বাগানবাড়িতে কাজ পান তিনি। কাজের সূত্রে রহিমা খাতুন তার বাবার সঙ্গে ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং মাঝে মাঝে ওই বাগানবাড়িতেও অবস্থান করতেন। গরিব ও অসহায় বিবেচনায় তোফাজ্জল হোসেন তাদের আশ্রয় দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে রহিমা খাতুন কৌশলে তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে শেরপুরে রহিমার বাড়িতে বেড়াতে গেলে তৎকালীন সময়ের আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সহযোগিতায় তোফাজ্জল হোসেনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৭৫ লাখ টাকা কাবিননামায় বিয়ে করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিয়ের পর তারা ঢাকার আসকোনা এলাকার বাগানবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই রহিমা খাতুন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। বাগানবাড়ির এক কেয়ারটেকারের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তোফাজ্জল হোসেন।
এ সময় তিনি জানতে পারেন, রহিমা খাতুন এর আগেও আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং কাবিনের টাকা নিয়ে তালাক দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠে আসে। এক পর্যায়ে রহিমা খাতুন ও তার সহযোগীরা আরও অর্থ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে তোফাজ্জল হোসেন ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে তাকে তালাক দেন।
পরে জানা যায়, তালাকের সময় রহিমা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সন্তান জন্মের সময় মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসা ও হাসপাতালের ব্যয় বহন করেন তোফাজ্জল হোসেন এবং একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি শিশুর নামে ব্যাংক হিসাব খুলে এক লাখ টাকা জমা দেন বলে জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকা রহিমা খাতুন তুলে নেন।
শিশুর প্রতি অবহেলা ও অযত্নের কারণে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পারিবারিক শালিসের মাধ্যমে সন্তানের দায়িত্ব তোফাজ্জল হোসেন নিজের কাছে নেন।
এদিকে তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, রহিমা খাতুন তার কথিত পরকীয়া প্রেমিক ও চতুর্থ স্বামী আমির হামজার সঙ্গে যোগসাজশে এখনও তাকে অর্থ আদায়ের জন্য চাপ ও ব্ল্যাকমেইল করছেন। পাশাপাশি সঠিক তথ্য যাচাই না করে কয়েকজন কথিত সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে রহিমা খাতুনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হাজী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমার মান-সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস



















