অনিয়মিত অভিবাসীদের ঠেকাতে জার্মানির সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মেয়াদ বাড়ালো পোল্যান্ড

অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী জার্মানির সঙ্গে চলমান সীমান্ত নজরদারির মেয়াদ আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পোল্যান্ড

ইউরোপ ডেস্কঃ রবিবার (৩ আগস্ট) পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্চিন কিয়ারভিনস্কি এ ঘোষণা দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসীদের থামাতে গত মাসে চালু করা সীমান্ত নজরদারির মেয়াদ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে ৷

প্রাথমিকভাবে ৫ আগস্ট এই সীমান্ত নজরদারির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু এর মেয়াদ যে আরো বাড়ানো হবে, তা আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল ৷ অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জার্মান সরকার সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেয়ার পর পোল্যান্ডও একই পথে হাঁটে ৷

উল্লেখ্য যে,চলতি বছরের ৭ জুলাই থেকে প্রতিবেশী জার্মানি ও লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে থাকা সীমান্তে এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল৷ লিথুয়ানিয়ার ক্ষেত্রেও সীমান্ত নজরদারির মেয়াদ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানিয়েছে পোল্যান্ড সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্চিন কিয়ারভিনস্কি আরও বলেন, এই মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি আমরা ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনকে অবহিত করেছি এবং প্রতিবেশী দেশ উক্ত দুইটিকেও জানিয়েছি। ভিসামুক্ত অবাধ চলাচলের শেনজেন জোনভুক্ত দেশগুলোর সরকার যদি মনে করে, তাদের দেশে জনশৃঙ্খলা বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে, সেক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার অধিকার রয়েছে তাদের ৷

পোলিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে এ বিষয়ে বোঝাপড়া রয়েছে, কারণ লিথুয়ানিয়া এবং লাটভিয়ার মধ্য দিয়ে চালু হওয়া অভিবাসন রুটটি বন্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্য ৷’’
এই নজরদারি আরো বাড়ানো হবে কিনা, তা নিশ্চিত হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ কারণ পোলিশ সীমান্তরক্ষী, সামরিক বাহিনী এবং পুলিশের তথ্য নিয়ে সেপ্টেম্বরে সীমান্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করবে দেশটির সরকার ৷

পোল্যান্ডের এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানি সরকারের একজন মুখপাত্র হিসাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডটের আগের কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন৷ এর আগে পোল্যান্ডের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে ‘‘অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৷

জার্মানি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পোল্যান্ডসহ নয়টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে থাকা সীমান্তে তল্লাশি শুরু করে৷ এ বছরের মে মাসে ক্ষমতা গ্রহণ করে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যাৎর্সের নেতৃত্বাধীন সরকার ৷ এরপর এই তল্লাশি আরো কঠোর করা হয়৷ এমনকি জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডোব্রিন্ডট সীমান্তে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ৷ এরপরই প্রতিক্রিয়া দেখায় ওয়ারশ ৷

পোলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত জার্মানির সঙ্গে থাকা সীমান্তে দুই লাখ ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ এবং এক লাখ ১০ হাজার গাড়ির তল্লাশি নিয়েছে পোল্যান্ড ৷ এই সময়ে ১০৫ জনকে পোল্যান্ডে ঢুকতে দেয়া হয়নি৷ জার্মানির সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো ৭২ জনকে গ্রহণ করেছে পোল্যান্ড এবং দুই জনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷ এছাড়া ছয় জন অভিবাসীকে জার্মানিতেই ফেরত পাঠানো হয়েছে ৷

তাছাড়াও, গত ৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত লিথুয়ানিয়া সীমান্ত দিয়ে আসা ৬১ জনকে পোল্যান্ডে ঢুকতে দেয়া হয়নি৷ এই সময়ে লিথুয়ানিয়া সীমান্ত এলাকায় অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তার অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে ৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »