পিপিআর টিকা দেওয়ার পর ছাগল মৃত্যুর অভিযোগ, আতঙ্কে খামারিরা

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুরে পিপিআর টিকা নেওয়ার পরপরই ছাগলের মৃত্যু ও অসুস্থতার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নওদা গ্রামে কয়েক শতাধিক ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে ৩টি ছাগল মারা গেছে বলে জানা গেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান,গেল সোমবার(১৬ জুন)সকালে মহেশপুর পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের নওদা গ্রামে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিনামূল্যে ছাগল-ভেড়ার পিপিআর টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ওয়েব ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। ওই ঘোষণার পর গ্রামের প্রায় চার শতাধিক ছাগলকে টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ছাগলগুলোর শরীর ফুলে যায়,ইনজেকশনের স্থানে পানি বের হতে থাকে। এরপর অনেক ছাগল দুর্বল হয়ে পড়ে,খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ঝিমিয়ে পড়ে।

নওদা গ্রামের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন জানান,তিনি ঋণ নিয়ে দুটি ছাগল কিনেছেন এবং আরও দুটি ছাগল পরিচর্যার জন্য নিয়েছিলেন। টিকা দেওয়ার আগে ছাগলগুলো পুরোপুরি সুস্থ ছিল। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরই দুটি ছাগল মারা গেছে, বাকি দুটি ছাগলও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার তো সর্বনাশ হয়ে গেল। ঋণের কিস্তি দিব কেমনে?’

এলাকাবাসীর অভিযোগ,টিকা দেওয়ার পর থেকেই প্রতিদিনই ছাগলের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনা ঘটছে। এখন গ্রামের প্রায় চার শতাধিক ছাগল গুরুতর অসুস্থ। অনেকের দাবি,টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ টিকা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে ওয়েব ফাউন্ডেশনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে,বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। টিকা দেওয়ার পদ্ধতি ও ব্যবহৃত টিকা পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুর আলম বলেন,‘এলাকায় ছাগলের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে সময় লাগবে।’

এ ঘটনায় পুরো নওদা গ্রামে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি,ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে,সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »