ঝালকাঠিতে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট, ব্যস্ততা কামারপাড়ায়

বাঁধন রায়, ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার চারটি উপজেলায় প্রচলিত পশুর হাট রয়েছে ৮৩টি এবং অস্থায়ী অনুমোদিত হাট রয়েছে ২০টি। শহরতলী ও গ্রামাঞ্চলে সবমিলিয়ে শতাধিক গরুর হাটে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। এসব হাটে দেশী গরু এবং ছাগলেরই সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতাদের সর্বোচ্চ পছন্দ দেশী পশু। কুরবানিকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়ে কামারপাড়ায়। কুরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, হাড্ডি-গোশত কাটতে নতুন সরঞ্জাম তৈরী এবং পুরাতন সরঞ্জামে ধার দিয়ে ব্যবহার উপযোগী করতে কামারের দোকানে যাচ্ছে কুরবানি দাতারা। তুলনামূলক কামারের দোকান কম থাকায় ভীড় বাড়ছেই। টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া। ব্যস্ততায় দম ফেলানোর ফুসরত পাচ্ছেন না কামারেরা। সেই সাথে প্রস্তুতি নিচ্ছে পেশাদার ও মৌসুমী কসাইরা। কুরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়, সরঞ্জাম তৈরী ও ধার দেয়া, কসাইদের মজুরি নিয়ে জেলায় কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদুল ইজহা উপলক্ষে চাকুরীজীবীরা মাসের প্রথম দিকে বেতন পেতে শুরু করেছে। তেল-মসলাসহ যাবতীয় শওদা ক্রয়ও শুরু করেছেন অনেকে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রবিবারে জেলার রাজাপুর বাগড়ি এবং শনিবারে সদর উপজেলার সুগন্ধিয়া হাটে কোরবানিকে ঘিরে দেশি গরুতেই জমজমাট। এবছর ঝালকাঠি জেলায় চাহিদার তুলনায় কুরবানির পশু উৎপাদন কম থাকলেও পার্শবর্তি জেলা থেকে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম নিয়ে অভিযোগ কিছুটা কম। তবে পুরোদমে বেচাকেনা জমে উঠেতে আরও দুয়েকদিন সময় লাগবে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
পশুর হাটে সকাল থেকেই ট্রাক ও ট্রলারে করে পশু নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় গরুর পাশাপাশি সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, চিতলমারী ও যশোর থেকেও এসেছে পশু। হাটে দেশি গরু বেশি, ক্রেতার উপস্থিতিও ভালো কিন্তু ক্রেতা কম। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে এমন আশা করছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। হাটে জাল টাকা শনাক্তের ব্যাংক বুথ স্থাপনসহ, তদারকির বিষয়টি জানান সংশ্লিষ্টরা। জাল টাকা প্রতিরোধে বাড়তি তদারকিসহ ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছরে পশু কুরবানীর সংখ্যা বাড়বে। সে অনুযায়ী জেলায় ৩০হাজার কুরবানীর পশুর চাহিদা নিয়ে বিভিন্ন খামারে জেলায় সর্বোচ্চ ২০হাজার পশু প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৮হাজার ২৭৪পশু খামারীদের লালন পালনের মধ্যে রয়েছে। কুরবানীর সময় এই সংখ্যা ২০হাজারে দাড়াবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ আসন্ন কুরবানীকে সামনে রেখে কুরবানীর পরে চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী এবং মৌসুমি ১২০জন কশাইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যাতে করে কুরবানীর পশু থেকে চামড়া ছাড়ানোর সময় যে ধরনের সতর্কতা রাখতে হয় সেইভাবে তারা কাজ করবে।
জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে সদর ্উপজেলায় বর্তমান ২৩২০টি ষাড়, ২৫০টি বলদ, ৫৯৬টি গাভী, ২০৫৬টি ছাগলসহ ৫হাজার ২শ ২২টি গবাদী পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে। নলছিটি উপজেলায় ১৪২৭টি ষাড়, ১৭৩টি বলদ, ২৮৬টি গাভী, ২৫টি মহিষ ও ৯৬০টি ছাগল ও ভেড়া ২০টিসহ ২হাজার ৮৯১টি গবাদী পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে। রাজাপুর উপজেলায় ১২৭৮টি ষাড়, ৫৩৩টি বলদ, ১৭৯টি গাভী, ৭টি মহিষ, ৭০৭টি ছাগল ও ভেড়া ১৭টিসহ ২ হাজার ৭২১টি গবাদী পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে। কাঠালিয়া উপজেলায় ১২৯০টি ষাড়, ৫৪০টি বলদ, ১৬০টি গাভী, ২০টি মহিষ ও ৬৫০টি ছাগল ও ভেড়া ১০টিসহ ২ হাজার ৬৭০টি গবাদী পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে। তিনি আরো জানান, ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলায় ৮৩টি প্রচলিত ও ২০টি মৌসুমী হাট রয়েছে।
জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান জানান, কুরবানি পশুর চামড়া ঈদুল আজহার দিন থেকে পরবর্তি ১০দিন ঢাকার দিকে যাবে না। চামড়া নিয়ে প্রতিবছরই একটা সিন্ডিকেট থাকে, ঢাকার সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঝালকাঠিতেও কোন সিন্ডিকেট থাকবে না। ঝালকাঠিতে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়টি জেলা প্রশাসন তদারকি করবে। কেউ ভেজাল করলে তার রেজাল্ট ভালো হবে না। তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে তেল-মসলাম কৃত্রিম সঙ্কট করে দাম বাড়িয়ে থাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা। মসলার দাম কৃত্রিম বৃদ্ধির আশঙ্কায় দৃশ্যমান স্থানে বাজার দর প্রদর্শন করার নির্দেশনা দেন তিনি। 
কুরবানি দেয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃক জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। কুরবানির পরে পরিস্কার না করে বর্জ্য ফেলে চলে গেলে কুরবানির পবিত্রতা নষ্ট হবে। এ জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭জনের সমন্বয়ে  কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও শব্দদূষণ থেকে পরিবেশ রক্ষা করতে উচ্চস্বরে গানবাজনায় আনন্দ না করতে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। ইতিমধ্যেই ঝালকাঠি জেলায় পেশাজীবি কশাই ও মৌসুমী কশাইদের পশুর চামড়া সুচারুভাবে ছাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »