টাঙ্গাইলে মসজিদের ঈমামের রাজকীয় বিদায় ঘোড়ার গাড়িতে পৌছে দেয়া হলো বাড়ি

 টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ এ কোন সামরিক বেসামরিক বা উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা নয়, বা মন্ত্রী এমপির রাজকীয় বিদায় নয়। এটি হল ধর্মীয় আনুগত্যে বিশ্বাসী নিভৃত পল্লী এলাকার একটি মসজিদের ইমাম
মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান খানকে অবসরকালীন বিদায় অনুষ্ঠান। প্রায় তিন যুগ ইমামতি শেষে ইমামকে অবসরকালীন রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছেন গ্রামবাসী। বিদায়বেলায় ইমামকে ফুল ছিটিয়ে এবং ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সাথে এককালীন পেনসন হিসেবে দেয়া হয় ৯ লাখ টাকা। পরে ঘোড়ার গাড়িতে করে ঈমামকে পৌছে দেওয়া হয় তার বাড়িতে।

মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নতুন কহেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতীবকে এই রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ইমামের এই রাজকীয় বিদায় অনুষ্ঠান দেখতে এক নজর ন ভীড় করেন গ্রামবাসী।

সম্মানিত করতে ঘোড়ার গাড়ি বহরের সাথে সঙ্গী হয়েছে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল। নতুন কহেলা জামে মসজিদ কমিটি এবং গ্রামবাসী এই রাজকীয় বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে ৬শ’ টাকা বেতনে নতুন কহেলা জামে মসজিদে ইমাম হিবেসে যোগদান করেন মাওলানা মোহাম্দ শাহজাহান খান। বিদায়ের প্রাক্কালো ইমামের বেতন হয় ১৭ হাজার পাঁচশত টাকা। মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান খান ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে মাওলানা পাস করেন।

তার এই দীর্ঘ ইমামতি পেশায় থাকা কালীন এলাকায় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি অসংখ্য মানুষকে কুরআনের শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি জানাজা পড়িয়েছেন হাজারের অধিক মানুষের।
গ্রামের মানুষ নানা ধরনের উপহার দিয়েও তাকে বিদায় জানান। তার বিদায়ী সফর সঙ্গী হয়ে এই গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইমামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এমন বিদায় জানাতে পেরে খুশি নতুন কহেলা গ্রামবাসীরাও।  অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পেসশন দিতে পারায় খুশি স্থানীয়রা। পুরো দেশের ইমামদের দিকে সুদৃষ্টি দিবে গ্রামবাসীর এমনটাই দাবি।

নতুন কহেলা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাশেম খান বলেন, ইমান মাওলানা মোহাম্মদ শাজাহান খান তার চাকরি জীবনে গ্রামের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ইমামের প্রতি গ্রামবাসীর ভালবাসা তা জনশ্রুতেই বুঝা যায়। আমরা গ্রামবাসী একজন উচুমানের ইমামকে বিদায় দিয়ে ব্যথিত।

বিদায়ী ঈমাম মাওলানা মোহাম্মদ শাজাহান খান বলেন, আমি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের জানাজা পড়িয়েছি। ৬শ’ জনকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমি কাজগুলো করতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিদায়বেলায় এলাকার মানুষ এত বড় আয়োজন করেছে তার জন্য এলাকার মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

এ ব্যাপারে নতুন কহেলা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম খান বলেন, এমন বিদায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি এলাকার মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ইমামের পরবর্তী জীবন ভালো কাটতে সরকারি চাকরির মত পেনশন দেওয়া হয়েছে।

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা/ইবিটাইমস/এম আর 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »