পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে স্বামী ও সন্তান ফেলে প্রেমের টানে প্রেমিকের হাত ধরে নিরুদ্দেশ হয়েছেন মোসা. মরিয়ম আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধু। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারী) থেকে ওই নারী তার স্বামী বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। ওই নারী উপজেলার ৯নম্বর কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের খলনি গ্রামের মো. সুমন খানের স্ত্রী। আর সুমন খান ওই গ্রামের মৃত আলী হোসেন খানের ছেলে।
আর ওই নারী জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলীখালী ইউনিয়নের হরিণপালা গ্রামের ইকবাল হোসেন বিশ্বাসের মেয়ে। আর পরকীয়া প্রেমিক রায়হান হাওলাদার (৩০) ওই গ্রামের আলমগীর হোসেন হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় একাধীক সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন স্বামী সুমন খান। এমন কি কিছুদিন আগে স্বামী সুমন তার স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্তায় পরকীয়া প্রেমিক রায়হানকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করে আবারও ঘরে নেন স্বামী।
গত ১৭ জানুয়ারী স্বামীর বাসা থেকে স্বর্ণ ও নগদ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হন গৃহবধূ। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি নাজিরপুর থানাকে অবহিত করেন।
থানার অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ৬/৭ বছরের পূর্বে ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের খলনি গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে মো. সুমন খানের সঙ্গে জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলীখালী ইউনিয়নের হরিণপালা গ্রামের ইকবাল হোসেন বিশ্বাসের মেয়ে মোসা. মরিয়ম আক্তার সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
সুমন চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকার কারনে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের খলনি গ্রামের মো. আলমগীর হাওলাদারের পুত্র মো. রায়হান হাওলাদারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মিমাংশা করে দেন। সুমন তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে সব কিছু মেনে নেন। গত (১৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় স্বামী ও তার পরিবারের আগোচরে নগদ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও হয়ে যান। স্ত্রীর খোঁজে শশুর বাড়িতে গেলে তারা অকথ্যা ভাষায় গালাগালির করে তাড়িয়ে দেয়।
ওই নারীর বাবা ইকবাল হোসেন বিশ্বাসের ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায় নাই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাজিরপুর থানার এএসআই আব্দুল মজিদ জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস