ইবিটাইমস: উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টায় হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেবেন। আগামীকাল বুধবার (৮ জানুয়ারি) হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সরাসরি তাকে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে। সেখানকার চিকিৎসকরাই তার চিকিৎসার বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবেন।
শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সৌজন্যে বিশেষ সুবিধাসংবলিত কাতার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কাতারের রাজকীয় চারজনসহ দশজন চিকিৎসক এবং নার্স, পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আরও ছয়জন খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকছেন। কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌছালে, সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর পর মা ও ছেলের মধ্যে সাক্ষাৎ হবে। এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলে তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মা খালেদা জিয়াকে নিজের বাসায় নিয়ে যান, যা নিয়ে তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক রহমানকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। তিন মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে শেখ হাসিনা সরকার।
চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া কবে দেশে ফিরতে পারবেন- এ বিষয়ে দলের নেতারা বলেন, চিকিৎসা শেষে ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরবেন বেগম জিয়া। তবে সব বিষয়ই নির্ভর করছে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারদের পরামর্শের ওপর।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর সব দ্বার উন্মুক্ত হয়। ৭৯ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান। একই সঙ্গে তার উন্নত চিকিৎসার প্রস্তুতি শুরু করে দলটি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন করে অবশেষে তিনি লন্ডনে যাচ্ছেন।
ইবিটাইমস/এনএল/আরএন