ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: কারখানাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ১৬ বছর আগে। অথচ তা পড়ে আছে অযতœ,অবহলোয়। ভবনের চারপাশে ছেয়ে গেছে ঝোপ-ঝাড়ে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ময়লা-আর্বজনার স্তুপ। ফাটল দেখা দিয়েছে ভবনের দেয়ালে। অথচ কারখানাটি রক্ষা বা চালু করতে স্বাস্থ্য বিভাগের কোন উদ্যোগ নেই। এমন চিত্র ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ ওরাল স্যালাইন কারখানার।
ঝিনাইদহ অঞ্চলের মানুষের পানি শূণ্যতা পূরন কিংবা ডায়রিয়ার চিকিৎসার অনুসঙ্গ হিসেবে জেলা শহরের মদন মোহন পাড়ায় নির্মাণ করা হয় ওরাল স্যালাইন কারখানা। ঝিনাইদহ ওআরএস স্যালাইন ফ্যাক্টরি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ফ্যাক্টরিটি নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০০৫ সালের ২২ অক্টোবর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট। এতে মোট ব্যয় হয় ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৯ টাকা। তবে নির্মাণের পর এভাবেই পড়ে আছে। হয়নি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও লোকবল নিয়োগ। দেড় যুগেও সৃষ্টি করা হয়নি পদ। অযতœ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো,যন্ত্রাংশসহ আসবাবপত্র। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে,অনুমোদন না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়নি।
এ স্যালাইন ফ্যাক্টরি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল,উৎপাদিত স্যালাইন ঝিনাইদহ ও আশপাশের জেলায় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা। এতে দরিদ্র মানুষ উপকৃত হতো। তবে তা এখন পর্যন্ত চালুই হয়নি।
স্থানীয় রাশেদুল ইসলাম বলেন,‘এতবছরেও জানিনা এখানে কোন স্যালাইন ফ্যাক্টরি আছে। কোনদিন কোন কার্যত্রম চোখে পড়েনি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে জানা নেই।’
জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক যুবক বলেন,‘কানাখানটি চালু না হওয়ায় আজ পর্যন্ত এখানে কারো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। এভাবে বন্ধ পড়ে আছে। কারখানাটি চালু হলে ঝিনাইদহ সহ আশপাশের মানুষ স্যালাইন সংকট থেকে মুক্তি পেত।’
রুবেল নামে আরেক যুবক বলেন,‘কারখানাটি বন্ধ পড়ে থাকার কারণে এখানে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসে।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিথিলা ইসলাম বলেন,‘অনুমোদন না দেওয়ায় এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি কারখানাটি। এ বিষয়ে অনেকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তবে দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি। কারখানাটি চালু করতে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।’
শেখ ইমন/ইবিটাইমস