অনিয়মিত অভিবাসনে কঠোর ইইউ নীতি চায় পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র

অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নীতি কঠোর করা এবং জোটের বহিঃসীমান্তে সুরক্ষা বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র

ইউরোপ ডেস্কঃ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত অভিবাসন বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ৯ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে এমন আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি ৷

ইউরোপের এই দুইটি দেশ বিগত দিনগুলোতে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে ‘নতুন উপায়’ এবং ২০২৬ সালের জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া অভিন্ন আশ্রয়নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ৷ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর ইইউ’র অভিন্ন আশ্রয়নীতিকে ‘অপর্যাপ্ত’ আখ্যা দিয়ে চেক প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালা বলেছেন, প্রাগ এবং ওয়ারশ ‘‘একটি কঠোর এবং দ্রুত আশ্রয়নীতি চায় ৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা প্রত্যাবাসন নীতিকে জোরদার করতে চাই, যা অকার্যকর৷ আমরা মানবপাচারকারী এবং অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাত্রা বাড়াতে চাই ৷’’

চলতি মাসের শেষের দিকে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা৷ ওই বৈঠকে অভিবাসন ইস্যুতে জোরালোভাবে কথা বলতে জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ৷

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে এক সংবাদ সম্মেলনে টাস্ক বলেন, ‘‘ইইউর অন্যান্য অংশীদারদেরকেও আমাদের বোঝাতে হবে, এবং আমরা সেটা করব৷ আমরা বলতে চাই, ইইউ’র কাজ হলো বাহ্যিক সীমান্ত রক্ষা করা এবং অনিয়মিত অভিবাসনকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা ৷’’

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ থেকে রক্ষা করতে হবে৷ পোল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব দিকের দেশগুলোর একটি৷ দেশটিকে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে লড়াই করতে হচ্ছে৷ পোল্যান্ড দাবি করে, প্রতিবেশী বেলারুশ এবং তার মিত্র রাশিয়ার ‘হাইব্রিড’ আক্রমণের শিকার হচ্ছে তারা ৷

২০২১ সালে গ্রীষ্মে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসী এবং উদ্বাস্তু বেলারুশ হয়ে পোল্যান্ডের সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে এবং পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছে৷ টাস্ক বলেন, ‘‘প্রতিদিন হাজার হাজার পোলিশ সেনা, পুলিশ, সীমান্তরক্ষীরা শুধু সীমান্ত পাহারাই দিচ্ছে না, বরং লুকাশেঙ্কোর (বেলারুশের প্রেসিডেন্ট) প্রশ্রয়ে সৃষ্ট চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ৷’’

তিনি বলেন, ‘‘এটি সাধারণ সীমান্ত সুরক্ষার চেয়ে যুদ্ধাবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ৷ প্রতিদিন গুলির শব্দ শোনা যায় ৷’’

আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের বেলারুশ হয়ে পোল্যান্ডের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে মস্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ওয়ারশ৷ গত মে মাসে পোল্যান্ড জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা বাড়াতে ২৩০ কোটি ইউরো ব্যয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি ৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »