ইবিটাইমস, ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে এখনই অস্থির হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শুক্রবার (৯ আগষ্ট) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান অবদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে, তা নিয়ে এখনই আলোচনা করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আপনি কি সংস্কার চান? সেটা না বুঝে মেয়াদের কথা বলতে পারব না। আর আপনারা যদি সংস্কার না চান, তখন আরেক কথা। কাজেই এখনই মেয়াদ-মেয়াদ করে অস্থির হওয়ার কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই যাতে একটি গণতান্ত্রিক দেশের যাত্রা শুরু করতে পারি, তার প্রস্তুতির জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই প্রস্তুতির জন্য যে সময় দরকার, সেটাই আমরা নেব। শেষ পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্রের দিকে যাব।’
বৈঠকে আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সিস্টেম পরিবর্তন করার জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। সুতরাং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, আজকে বেশিরভাগ আলোচনা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।’
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ক্ষমতা একটা গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে পড়লে অসুবিধা হয় না। কিন্তু সরকার অগণতান্ত্রিক হলে তখন আইনের অপপ্রয়োগ হয়। তাই সাইবার নিরাপত্তা আইনের যে বিধানগুলো অপ্রয়োগ করা যাচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে বাতিলের করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির খবর পাওয়া যাচ্ছে- বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে আইজিপিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তার কাছে কী তথ্য আছে? তাছাড়া পুলিশের অনেকগুলো থানাও সচল নয়। ফলে তার কাছে সব তথ্য থাকবে সেটাও আমরা মনে করি না। তাই আলোচনা হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে নামানো, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের।’
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সব মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্দোলনকারী ছাত্র প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকবেন। এখন কীভাবে তারা সম্পৃক্ত থাকবেন, কাঠামো কী হবে, সেটা পরবর্তী সময়ে চিন্তা করা হবে।
মন্ত্রণালয়গুলোতে কীভাবে ছাত্ররা সম্পৃক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে আরেকটু বিস্তারিত জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে একটি সিদ্ধান্ত আগেও ছিল; সেটি হলো ‘সহকারী উপদেষ্টা’ বা এ রকমভাবে কোনো পদায়ন করে মন্ত্রণালয়ে ছাত্রদের তদারকির সুযোগ থাকা; সেই ব্যবস্থাটি থাকবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মনোনীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য এবং ছাত্রদের কণ্ঠ থাকার জন্য দুজন ছাত্র প্রতিনিধিও এই উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছে। এর পাশাপাশি সামনের দিনে ছাত্র প্রতিনিধিরা অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন