লালমোহনের সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কাজ

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: প্রায় ৩৫ বছর আগে নির্মাণ করা হয় ভোলার লালমোহন উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের ভবন। নির্মাণের পর বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও ভবনটি আর মেরামত করা হয়নি। যার ফলে বিগত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে ভবনটির বিভিন্নস্থানের দেয়ালে ফাঁটল ধরেছে। বিভিন্নস্থান থেকে ধ্বসে পড়ছে ছাদের পলেস্তরা। এমনকি বৃষ্টি হলেই ভবনের ছাদ ছুঁইয়ে পানি পড়ে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ঝুঁকি জেনেও নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজে দৈনিক উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে ছুটছেন শ’ শ’ সেবাপ্রত্যাশী।

উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে মো. জামাল উদ্দিন এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম নামে আসা দুই সেবাপ্রত্যাশী জানান, জমির কাগজপত্রের সমস্যাজনিত কারণে গত কয়েকদিন ধরে এই অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এরমধ্যে চোখে পড়েছে অফিসের জরাজীর্ণ ভবনের চিত্র। এই অফিসের ভবনের অবস্থা খুবই বেহাল। বিভিন্নস্থান থেকে খসে পড়ছে ভবনের ছাদের পলেস্তরা।

তারা আরো জানান, কাজের জন্যই মূলত এখানে আসতে হচ্ছে। এখানে এসে ভয়ে থাকতে হয়। কারণ যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধ্বসে পড়তে পারে। আমাদের মতো এমন শত শত সেবাপ্রত্যাশী মানুষ দৈনিক এই অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে আসছেন। এখানে আসার পর সকলেই আতঙ্কে থাকছেন। তাই জরাজীর্ণ এই ভবনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনঃর্নিমাণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ভবনের জরাজীর্ণ বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। যার জন্য এই জরাজীর্ণ ভবনেই আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এই ভবনে কার্যক্রম চালানো সত্যিই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিপূর্বে ভবনের বিভিন্নস্থানের ছাদ খন্ড খন্ড আকাড়ে ভেঙে পড়েছে। সৌভাগ্যবশত এতে কেউ আহত হননি। তবে এখন ভবনের যেই অবস্থা তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা ছাড়া ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই আমাদের। তাই আমরা অফিসের ভবনটি পুনঃনির্মাণের জন্য আবারো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখবো। এরপর দেখা যাবে তারা কী উদ্যোগ নেন। তবে নতুন ভবন নির্মাণে সময় যত যাবে ঝুঁকি তত বাড়বে। তাই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ভবনটি পুনঃনির্মাণ করা জরুরি। আশা করছি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেবাপ্রত্যাশী এবং এখানের কর্মরতদের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিগগিরই এই ভবনটি পুনঃনির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »