ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা পুনরায় দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় আছে
ইবিটাইমস ডেস্কঃ মঙ্গলবার (১৪ মে) যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকা তাদের এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে। ভারতের মায়ানমার সংলগ্ন মণিপুর রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পরে তাদের গ্রেপ্তার এবং জোরপূর্বকভাবে মিয়ানমারে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ মাধ্যমটি আরও জানায়, চলতি মাসের শুরুর দিকে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী নংথোম্বাম বীরেন সিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পেজে ৭৭ জন ‘মায়ানমারের অবৈধ অভিবাসীকে’ বহিষ্কারের ঘোষণা দেন এবং এটাকে ‘প্রথম পর্ব’ বলে বর্ণনা করেন। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আরও প্রায় ৫,৪০০ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) বলছে,২০২১ সালে মায়ানমারের সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থী পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের স্বীকৃতি দেয় নি। তাছাড়াও দেশটি জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনেও স্বাক্ষর করেনি।
মণিপুরের শরণার্থীরা বলছে, সাম্প্রতিক নির্বাসন তাদের আতংকিত করে তুলেছে। সরকারের প্রত্যাশিত ধরপাকড় এড়াতে কেউ কেউ অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেছেন। সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি গোপন স্থান থেকে ভোয়ার সাথে কথা বলছিলেন সেইখাং হাওকিপ। তিনি বলেন, “এটিই সেই বিষয় যাকে আমরা ভয় পাই। এ কারণে… আমরা এখানে অন্য একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে চলে এসেছি, কারণ আমরা মণিপুর সরকারকে ভয় পাই।”
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মায়ানমারের জান্তাকে বেসামরিক নাগরিক ও আটক বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাসহ ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তারা বলেন, প্রতিরোধের বিরুদ্ধে নির্বিচারে বিমান ও কামানের হামলা পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে লড়াইয়ের কারণে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস