পশ্চিম অস্ট্রিয়া সংলগ্ন উত্তর ইতালির বোলজানো বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে এই জাঁকজমক বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে
ইউরোপ ডেস্কঃ গেল সপ্তাহান্তে ইতালির বোলজানো বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যোগে আমাদের আবহমান বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কে ধারণ করে এই প্রবাসের মাটিতেও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে ঘটা করে পালন করা হলো বাংলা নতুন বছর ১৪৩১ উপলক্ষ্যে বৈশাখী উৎসব ।
উত্তর বোলজানো শহরের ব্রিক্সন প্রভিন্সে ভিনতার ভেগ হল রুমে বাংঙ্গালিয়ানা নানা সাজে নবীন ও প্রবীণের বসেছিলো মিলন মেলা। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসের মাটিতে বেড়ে ওঠা শিশুদের দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় আলোচনা সভায় ।
বোলজানোর বিক্সনের কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব কামাল হোসেন এর আয়োজনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খান খসরু। কমল রাইয়ানের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোলজানো শহরের সাবেক মেয়র ও বর্তমান সংসদ সদস্য পিটার ব্রুনার। সে সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোলজানোর বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ফিলিক্স তাসলার,বোলজানোর প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন,দেলোয়ার হোসেন দয়াল, কামাল হোসেন,রেহানা হোসেন শিল্পী ,পুতুল কবির।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বৈশাখী উৎসবে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম জাহিদ হোসেন,মৃদুল হাসান, নিকছন চৌধুরী,মুকুল উদ্দিন, শক্তি প্রমূখ ।
বৈশাখী উৎসবে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী লোক সঙ্গীত পরিবেশননা ছাড়াও আগত অতিথিদের আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাহারি পিঠা, ইলিশ ভাজা ও পান্তা এবং গরম ভাত দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। তাছাড়াও বৈশাখী উৎসবে দেশীও ঐতিহ্যবাহী একতারা, কুলা,পলো, রিক্সা,গামছা ইত্যাদি উপস্থাপন করা হয়।
আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতির এই বিশাল আয়োজন দেখে উপস্থিত ইতালিয়ান ও অন্যান্য দেশের লোকজন অভিভূত হন। বিদেশীদের এই আনন্দঘন উপস্থিতিতে প্রবাসীদের বৈশাখী উৎসবে আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়। বৈশাখী উৎসবে বোলজানোর
স্থানীয় সংসদ সদস্য পিটার ব্রুনার তার এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশি সংস্কৃতির এমন একটি আয়োজনে আসতে পেরে আমি খুশি। আমাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আমি সব সময় বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশে থেকে কাজ করতে চাই। বাংলার ঐতিহ্য ও আয়োজনে আমি মুগ্ধ ।
আলোচনা পর্ব শেষে দেশীয় বাংলা সঙ্গীর পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে দুপুরের ভোজ শেষে আয়োজন করা হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার।
ছোট ছেলে-মেয়ে,মহিলা ও পুরুষদের পৃথকভাবে বিভিন্ন খেলাধূলার ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এই সুদূর প্রবাসে এই ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সন্তানদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও দেশের প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
জাকির হোসেন সুমন/ইবিটাইমস