ভিয়েনা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হামলা, পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আগুন জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে সরকার: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে মুলতবি অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লালমোহনে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত অবরোধের ৩৬ দিন পার হলেও চাল পায়নি লালমোহনের জেলেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ একনেক সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের দক্ষিণে রুশ হামলায় নিহত ৩ কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা সক্রিয় : সেনাবাহিনী

ফসল রক্ষায় কৃষকের অতন্দ্রপ্রহরী কাকতাড়ুয়া

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৭:০০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪
  • ৫৬ সময় দেখুন

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: কৃষকের মধ্যে প্রবাদ রয়েছে, কাকতাড়ুয়া নড়েচড়ে পশুপাখি পালায় ডরে। এজন্য কৃষকের বন্ধুও বলা হয় কাকতাড়ুয়াকে। ভোলার লালমোহন উপজেলায় কৃষকের ফসল রক্ষায় অতন্দ্রপ্রহরীর মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে কাকতাড়ুয়া। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এটি সনাতন পদ্ধতি।

এই কাকতাড়ুয়া মূলত ক্ষেতের ফসল পাখি, ইঁদুর ও মানুষের কু-নজর থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পাখি ও ইঁদুর এই কাকতাড়ুয়াকে মানুষ ভেবে ভয়ে ক্ষেতের কাছে যায় না। সেই ভাবনা থেকেই নিজের ক্ষেতের ফসল রক্ষায় এমন কৌশল ব্যবহার করেছেন লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চর ছকিনা এলাকার চাষি মো. বাবুল। তিনি তার গম ক্ষেতে দাঁড় করিয়েছেন কাকতাড়ুয়া। কেবল কৃষক বাবুলই নয়, উপজেলার অনেক কৃষক তাদের নানা ধরনের ফসলের ক্ষেতে ব্যবহার করছেন কাকতাড়ুয়া।

কৃষক বাবুল বলেন, এ বছর ৩২ শতাংশ জমিতে গম চাষ করেছি। এ ক্ষেতে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে ইঁদুর ও পাখি। এসবের থেকে ফসল রক্ষা করতেই ক্ষেতে মূলত এই কাকতাড়ুয়া দাঁড় করিয়েছি। এতে করে ইঁদুর ও পাখির আক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা মেলে।

তিনি আরো বলেন, ৩২ শতাংশ জমিতে গম চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো। ক্ষেতে ফলন অনেক ভালো রয়েছে। আশা করছি এই জমিতে অন্তত ১৬ মণ গম হবে। যা বাজারে প্রতি মণ ১৮শত থেকে দুই হাজার টাকা ধরে বিক্রি করতে পারবো। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষেতের সব ফসল ঘরে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

জানা গেছে, আদিকাল কাল থেকে গ্রামাঞ্জলের কৃষকরা পাখি ও ইঁদুর এমনকি মানুষের কু নজর থেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে অদ্ভুত ও অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করে ক্ষেতের ফসল রক্ষার্থে মানুষের আকৃতি সদৃশ্য কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করছেন। যা দন্ডায়মান একটি খুঁটিতে দুই-তিন ফুট উপরে আড়াআড়ি আরেকটি খুঁটি বেঁধে তাতে খড় প্যাঁচিয়ে মোটাসোটা করেন। এরপর ওই অংশের ওপরে খড়কুটো দিয়ে মাথার মতো বস্তু বানানো হয়। যেখানে পুরনো ছেঁড়া জামা বা পাঞ্জাবি পরিয়ে দেওয়া হয়। যা দেখে ভয়ের সৃষ্টি হয়। এই কাকতাড়ুয়াকে ফসলি জমির মাঝখানে দন্ডায়মান রাখেন কৃষকরা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ফসলি ক্ষেতের মধ্যে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এই কাকতাড়ুয়ার ফলে ক্ষেতে উপদ্রব কমে ইঁদুর ও পাখির।

চরছকিনা এলাকার জাহাঙ্গীর মাঝিরতন মাঝি  মোজাফর নামে আরো কয়েকজন চাষি বলেনকাকতাড়ুয়া মূলত পাখি  ইঁদুরকে ভয় দেখানোর জন্যে জমিতে দাঁড় করানো হয় এতে করে পাখি এবং ইঁদুর বুঝতে পারে। 

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হামলা, পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আগুন

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ফসল রক্ষায় কৃষকের অতন্দ্রপ্রহরী কাকতাড়ুয়া

আপডেটের সময় ০৭:০০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: কৃষকের মধ্যে প্রবাদ রয়েছে, কাকতাড়ুয়া নড়েচড়ে পশুপাখি পালায় ডরে। এজন্য কৃষকের বন্ধুও বলা হয় কাকতাড়ুয়াকে। ভোলার লালমোহন উপজেলায় কৃষকের ফসল রক্ষায় অতন্দ্রপ্রহরীর মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে কাকতাড়ুয়া। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এটি সনাতন পদ্ধতি।

এই কাকতাড়ুয়া মূলত ক্ষেতের ফসল পাখি, ইঁদুর ও মানুষের কু-নজর থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পাখি ও ইঁদুর এই কাকতাড়ুয়াকে মানুষ ভেবে ভয়ে ক্ষেতের কাছে যায় না। সেই ভাবনা থেকেই নিজের ক্ষেতের ফসল রক্ষায় এমন কৌশল ব্যবহার করেছেন লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চর ছকিনা এলাকার চাষি মো. বাবুল। তিনি তার গম ক্ষেতে দাঁড় করিয়েছেন কাকতাড়ুয়া। কেবল কৃষক বাবুলই নয়, উপজেলার অনেক কৃষক তাদের নানা ধরনের ফসলের ক্ষেতে ব্যবহার করছেন কাকতাড়ুয়া।

কৃষক বাবুল বলেন, এ বছর ৩২ শতাংশ জমিতে গম চাষ করেছি। এ ক্ষেতে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে ইঁদুর ও পাখি। এসবের থেকে ফসল রক্ষা করতেই ক্ষেতে মূলত এই কাকতাড়ুয়া দাঁড় করিয়েছি। এতে করে ইঁদুর ও পাখির আক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা মেলে।

তিনি আরো বলেন, ৩২ শতাংশ জমিতে গম চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো। ক্ষেতে ফলন অনেক ভালো রয়েছে। আশা করছি এই জমিতে অন্তত ১৬ মণ গম হবে। যা বাজারে প্রতি মণ ১৮শত থেকে দুই হাজার টাকা ধরে বিক্রি করতে পারবো। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষেতের সব ফসল ঘরে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

জানা গেছে, আদিকাল কাল থেকে গ্রামাঞ্জলের কৃষকরা পাখি ও ইঁদুর এমনকি মানুষের কু নজর থেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে অদ্ভুত ও অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করে ক্ষেতের ফসল রক্ষার্থে মানুষের আকৃতি সদৃশ্য কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করছেন। যা দন্ডায়মান একটি খুঁটিতে দুই-তিন ফুট উপরে আড়াআড়ি আরেকটি খুঁটি বেঁধে তাতে খড় প্যাঁচিয়ে মোটাসোটা করেন। এরপর ওই অংশের ওপরে খড়কুটো দিয়ে মাথার মতো বস্তু বানানো হয়। যেখানে পুরনো ছেঁড়া জামা বা পাঞ্জাবি পরিয়ে দেওয়া হয়। যা দেখে ভয়ের সৃষ্টি হয়। এই কাকতাড়ুয়াকে ফসলি জমির মাঝখানে দন্ডায়মান রাখেন কৃষকরা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ফসলি ক্ষেতের মধ্যে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এই কাকতাড়ুয়ার ফলে ক্ষেতে উপদ্রব কমে ইঁদুর ও পাখির।

চরছকিনা এলাকার জাহাঙ্গীর মাঝিরতন মাঝি  মোজাফর নামে আরো কয়েকজন চাষি বলেনকাকতাড়ুয়া মূলত পাখি  ইঁদুরকে ভয় দেখানোর জন্যে জমিতে দাঁড় করানো হয় এতে করে পাখি এবং ইঁদুর বুঝতে পারে। 

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস