বিদেশে চাকুরী দেয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ আটকে রেখে নির্যাতন

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে বিদেশে চাকুরী দেয়ার কথা বলে সেখানে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী ও তার পিতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী মো. সোহাগ ভূইয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতলা গ্রামের আলমগীর ভূইয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগীরা উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এ সব ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ছোট আমতলা গ্রামের ভুক্তভোগী মো. আরিফ মল্লিকের মা জায়েদা বেগম ও পঙ্গু পিতা ইলিয়াস মল্লিক তার পুত্রের উপর নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, গত প্রায় সাত মাস আগে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় সুদে টাকা এনে আয়ের উদ্দেশ্যে সোহাগ ভূইয়ার মাধ্যমে ছেলেকে দুবাই পাঠান। সেখানে ছেলেকে কোন চাকুরী না দিয়ে তাকে ইয়াবা বিক্রি করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তাতে সে রাজী না হওয়ায় তাকে খবার না দিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।

রুহিতলা বুনিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী মেহেদী হাসানের মা আজমীন বেগম জানান, তার পুত্র গত দু’বছর আগে আপন মামা আলমগীর ভূইয়ার ছেলে সোহাগ ভূইয়ার মাধ্যমে দুবাই যায়। সেখানে তার চাকুরীর বেতন মামাতো ভাই সোহাগ ভূইয়ার আটকে রাখে। তাকে সামান্য খাবার দেয় ও নির্যাতন করে। ছেলে প্রায়ই ফোন করে কান্না করে নির্যাতনের খবর জানায়।

একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আলী কাজীর ছেলে দুবাই ফেরত ভুক্তভোগী মো. জুয়েল কাজী জানান, তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকায় দুবাই গেলেও তাকে সেখানে ৫ মাস চাকুরী করলেও তার বেতনের টাকা তাকে দেয়া হয় নি। বেতন চাইলে তাকে এক মাস সামান্য খাবার দিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে গোপনে দেশে চলে আসেন। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রী পুত্রের নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

একই এলাকার মৃত আব্দুল মালেক কাজীর ছেলে দুবাই ফেরত ভুক্তভোগী কাজী আল মামুন বলেন, গত বছরের ৩ জুলাই ব্যবসার চুক্তিতে সোহাগ ভূইয়ার মাধ্যমে দুবাই যান। সেখানে যাওয়ার খরচ ও ব্যবসার জন্য দুই ধাপে তাকে ২১ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু তাকে ব্যবসার কোন অংশীদার না রেখে মিথ্যা আশ^াস দিয়ে সেখানে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি পালিয়ে দেশে চলে আসেন। দেশে ফিরে এলে অভিযুক্ত সোহাগ ভূইয়ার পিতা ৪ লাখ টাকা ফেরত দেন।

ঝালকাঠী জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম চেঁচরি গ্রামের তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে ভুক্তভোগী আল আমীন হাওলাদার বলেন, তার দুবাইতে নিজস্ব কোম্পানীতে শ্রমিক নিয়োগের ভিসার কাজ ওই সোহাগ ভূইয়াকে দেয়া হয়। কিন্তু সে কোন কাজ না করে তার প্রয়োজনীয় আইডি ও ই-স্বাক্ষর কার্ড আটকে দুবাই মুদ্রার ২৭ হাজার দেরহাম (বাংলাদেশী ৯ লক্ষ টাকা) হাতিয়ে নেয়। আর এতে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ওই টাকা ও ডকুমেন্ট চাইতে গেলে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকী দেয় অভিযুক্ত।
একই অভিযোগ একই এলাকার মৃত শামসুল হক কাজীর ছেলে মো. এমদাদুল হক কাজীর।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, টাকা বা প্রবাসী ছেলের তথ্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত ও তার পিতা বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকী দেন। এমন কি পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় অভিযুক্তের পিতা আলমগীর ভূইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব হাসান কাজী বলেন, দুবাই প্রবাসী সোহাগ ভূইয়া ও তার পিতা আলমগীর ভূইয়ার বিরুদ্ধে এমন প্রতারনার কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে স্থানীভাবে কয়েকবার শালিশ বৈঠকও হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. রাসেল শিকদার বলেন, দুবাই প্রবাসী সোহাগ ভূইয়া ও তার পিতা আলমগীর ভূইয়ার বিরুদ্ধে এমন প্রতারিত কয়েকজন মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পিতা-পুত্র তাদের বিরুদ্ধে আনিত এমন সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন।

এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »