ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধুনালুপ্ত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এখন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। এই ব্যাংকের মালিক সরকারের পাশাপাশি এখন তৃণমূল স্তরের ব্যাংকের সমিতিভূক্ত সদস্যরা। তারা এখন গর্ব করে বলতে পারেন তারাও একটি ব্যাংকের মালিক।
শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্যদের তাদের স য় এবং এর সাথে সমপরিমাণ সরকারের দেয়া উৎসাহ বোনাস ও ঋণ সহায়তা নিয়ে এই মূলধন গঠন করা হয়েছে। মূলধন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরে এই অর্থকে আর্থিক ব্যবস্থপনার সুষম কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখার জন্যই এই ব্যাংক পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। এই ব্যাংকের ৫১% শেয়ার সরকার এবং ৪৯% শেয়ার মালিক সমিতি। বর্তমানে এই ব্যাংক এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে এসে দাড়িয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ঝালকাঠি জেলায় এই ব্যাংকের লাভ দাড়িয়েছে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের দরিদ্র এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষদেরকে নিয়ে সমিতি করে সমিতির তহবিল গঠন, সদস্যদের স য় প্রবণতা বৃদ্ধি করা, দরিদ্র জনগণের দারিদ্র বিমোচন, নারীকে আয় বর্ধক কাজে নিয়োজিত করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী করা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, সমিতি ও সদস্যদের সঞ্চয় এবং অর্জিত সম্পদের লেনদেন ও রক্ষনাবেক্ষন, ঋণ ও অগ্রিম প্রদানের মাধ্যমে দেশ থেকে দারিদ্র বিমোচন করা। নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রতিটি সমিতিতে ৬০জন সদস্যের মধ্যে ৪০জন মহিলা সদস্য রয়েছে।
ব্যাংক সমিতিসমূহের এসএনডি হিসাব, সদস্যদের সঞ্চিত আমানত হিসাব, মাসিক ডিপোজিট হিসাব, স্কুল ব্যাংকিং এই সকল কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সমিতি সদস্যদের কৃষি পণ্য যাতে কম মূল্যে বিক্রি করতে না হয় তার জন্য স্বল্প সেবা মূল্যে ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য বিভিন্নমূখী খাতে স্বল্পসেবা মূল্যে ঋণ প্রদান করে আসছে। ব্যাংক সদস্যগণের উন্নয়নকল্পে নতুন নতুন খাতে ঋণ প্রদান প্রবর্তন করছেন।
ঝালকাঠি জেলার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, এই ব্যাংকের জেলার ৪টি উপজেলায় মোট ৪টি শাখা রয়েছে। মোট ব্যাংকের জনবল সংখ্যা ৬৭জন। জেলায় সমিতির সংখ্যা ৭৭২টি এবং মোট সদস্য সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৩৩জন। জেলায় মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ ১৪ কোটি ৫৩ লাখ এবং মোট ঋণি সদস্য ১৬ হাজার ৯৯১ জন। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ১২ কোটি ৮৭লাখ। জেলায় মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ২০২ কোটি ৪৩ লাখ। চলতি অর্থ বছরের ৬ মাসে ঋণ আদায়ের পরিমাণ ১৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং জেলায় ঋণ আদায়ের পরিমাণ ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ। ব্যাংকের স্থীতি ৫০ কোটি ৩৩ লাখ এবং খেলাফী ঋণের পরিমাণ ১৩ কোটি ১৮ লাখ।
প্রতিটি ইউনিয়নে ১জন করে মাঠকর্মী কর্মরত রয়েছে। ব্যাংক তার নিজস্ব অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে সদস্যদের আর্থিক সেবা প্রদান করছে এবং এই সেবাকে সহজলভ্য করার জন্য ব্যাংকের নিজস্ব ডিজিটাল আর্থিক সেবা (পল্লী লেনদেন) চালু করা হয়েছে। প্রতিটি সমিতিতে ১জন করে সদস্যকে লেনদেন ম্যানেজার নিয়োগ করা হয়েছে যারা গ্রামে বসেই সদস্যদের অর্থ লেনদেন করছেন।
এই সেবার মাধ্যমে লেনদেন ম্যানেজারের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সমিতির সদস্যগণের প্রবাসে থাকা আত্মীয় স্বজনদের প্রেরিত রেমিটেন্স পল্লী লেনদেন ম্যানেজারগণের মাধ্যমে গ্রামে বসেই উত্তোলন করতে পারছেন। এজন্য এই সেবা নিতে কোন সদস্যকে এই ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য উপজেলা সদর শাখায় আসতে হয় না। সদস্যদের শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয় করার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সদস্যগণ তাদের নিজস্ব মোবাইলের মাধ্যমে যাবতীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই সেবার মাধ্যমেই সদস্যরা ঘরে বসেই নিজস্ব মোবাইলের মাধ্যমে যাবতিয় ব্যাংকিং কার্যক্রম করতে পারবেন এবং সদস্যগণের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণের নিমিত্তে ব্যাংক অনলাইন ই-কমার্স চালু করতে যাচ্ছে। এই সিস্টেম সদস্যগণের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই ব্যাংকের সদস্যরাই তাদের বাড়িতে আয়বর্ধক কৃষি খামার স্থাপন করে দারিদ্র বিমোচনে আন্তরিক রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সদস্যদের ৩৩% গবাদি প্রাণী পালন, ২১% হাস-মুরগী পালন, ১১% মৎস্য চাষ ও ১২% কৃষি খামার স্থাপনে বিনিয়োগ করে থাকেন।
বাধন রায়/ইবিটাইমস