ভোলার চরফ্যাসনে নিষেধাজ্ঞার তিন মাসেও হয়নি জাটকা নিধন অভিযান

অবাধে চলছে জাটকা শিকার, নজরদারি নেই প্রশাসনের, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী ইলিশ শুন্য হওয়ার আশংকা

চরফ্যাসন(ভোলা) প্রতিনিধিঃ সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারীর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ভোলার চরফ্যাসনে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় হয়নি জাটকা সংরক্ষন মৌসুমে কোন অভিযান।

১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ করা নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় জাটকা নিধন উৎসবে মেতে উঠেছে জেলেরা। প্রকাশ্য জাটকা বিক্রি হচ্ছে চরফ্যাসন পৌর সদর বাজারসহ গ্রামের বাজারগুলোতে। অবাধে জাটকা নিধনের ফলে ইলিশ শুন্য হতে বসছে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরব থাকায় অবাধে নিধন হচ্ছে জাটকা ইলিশ এমনটাই দাবী সচেতন মহলের।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে জেলেরা জাটকা ধরে চরফ্যাসন উপজেলার মাইনুদ্দিন, খেজুর খাছিয়া, পাঁচ কপাট, আট কপাট, বকসি, বাবুর হাট, ঘোষের হাট, গাছির খাল ও চৌকিদারের খাল ঘাট সমুহের আড়তগুলোতে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত এসব ঘাটে হাক ডাকে লক্ষ লক্ষ টাকার জাটকা (ইলিশের পোনা) বেচাকেনা হয়।

উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা ও খুচরা বিক্রেতারা এসে আড়ৎদারদের কাছ থেকে জাটকা ইলিশ কিনে চরফ্যাসন সদর বাজারসহ স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করছেন।

এছাড়া প্রতিদিন লঞ্চ যোগে ও সড়ক পথে ঢাকা, বরিশাল,চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইলিশের পাশাপাশি জাটকা নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

অভিযোগ আছে, ব্যবসায়ীরা উপজেলা মৎস্য অফিসসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার তিন মাস অতিবাহিত হতে চললেও উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা অভিযানে না নেমে নীরব ভূমিকায় রয়েছেন। এ সুযোগে অবাধে জাটকা ইলিশ ধরা এবং বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন ব্যবসায়ী এবং জেলেরা।

মো.নান্নু নামে একজন জেলে নেতা জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা শিকার করে স্থানীয় আড়ত ও হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে প্রশাসন কিছু কিছু অভিযান চালালেও এবার কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। দ্রুত জাটকা নিধন বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে অচিরেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া ইলিশ শূন্য হবে।

উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি শফি উল্যাহ পলোয়ান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। আর এ সম্পদ রক্ষায় প্রতিবছরই সরকার বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। সংশ্লিস্ট দপ্তরগুলোকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে নির্দেশনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে চরফ্যাসনে তা বাস্তবায়নে গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। এতে জাতীয় এ সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে এটি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে ক্ষতিসাধণ হচ্ছে সরকারের।

ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত করে যারা সাময়িক লাভের জন্য জাটকা নিধন করে এবং যারা এই জাটকা নিধনে সহযোগীতা করতে নিজ কর্তব্য ভুলে আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান সচেতন মহল।

এওয়াজপুর গ্রামের জেলে আবদুর রব জানান, প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদীতে ইলিশের সংকট থাকায় জেলেদের দেনার বোঝা ভাড়ি হচ্ছে। জাটকা সংরক্ষন মৌসুমে এবার এখনো অভিযান শুরু হয়নি। মাছ শিকার ছাড়া বিকল্প কোনো কাজ না থাকায় বাধ্য হয়েই আমরা জাটকা শিকার করছি।

মো. আব্বাছ নামের সামরাজ ঘাটের এক আড়তদার জানান, এবছর নদীতে মাছ না থাকায় জেলেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে, জাটকা ছাড়া এখন নদীতে কোন মাছ নাই। তাই তারা নিরুপায় হয়ে জাটকা ধরছে। প্রশাসন যদি জাটকা ধরা বন্ধ করে দিতে পারে তাহলে বিক্রিও বন্ধ হবে।

জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞার তিন মাস অতিবাহিত হতে চললেও কোন অভিযান হয়নি, একারণে জেলেরা দেদারছে জাটকা নিধন করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাসন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানান, নভেম্বর- ডিসেম্বর আসলে নদীতে মাছ ছিল না। জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের নদীতে ইলিশের ঝাঁক ঢুকে, সেই ঝাঁকটাই ঢুকেছে, যার কারণে এত পরিমান জাটকা আসছে। মিটিং’র অভাবে আমরা অভিযান শুরু করতে পারিনি। বৃহস্পতিবার (২৫জানুয়ারী) উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মিটিং হয়েছে, কাল পরশুর মধ্যে আমরা অভিযান শুরু করবো।

চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহি অফিসার নওরীন হক জানান,জাতীয় নির্বাচনের কারনে অভিযান ব্যহত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৫জানুয়ারী) উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মিটিং হয়েছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমারা অভিযান পরিচালনা করবো।

শহিদুল ইসলাম জামাল/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »