ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি জেলায় ২৩-২৪ অর্থ-বছরের বোরো মৌসুমে জেলার ৪টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৫০ হেক্টরের লক্ষমাত্রা নিয়ে কৃষকরা বোরো আবাদ শুরু করেছে।
এরই মধ্যে ২ হাজার ১৫০ হেক্টরে হাইব্রীড এবং অবশিষ্ট ১১ হাজার ৬০০ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ হচ্ছে। জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা বোরো প্রধান এলাকা হিসেবে লক্ষমাত্রার সিংহভাগ ১২ হাজার ৯৭৫ হেক্টরে বোরোর চাষ হচ্ছে। অন্য ২ উপজেলা রাজাপুর ও কাঠালিয়ার কৃষকরা নিচু এলাকা হওয়ার কারণে বিলম্বে আমন ধান চাষ করেছে এবং তারা এখন পর্যন্ত ধান কাটা শেষ করতে পারেনি। এই দুই উপজেলায় মাত্র ৭৭৫ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা রয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে দাবি করা হয়েছে কৃষকদেরকে বোরো চাষাবাদে হাইব্রীড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদের জন্য কৃষি প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে।
হাইব্রীড চাষের জন্য জেলার ৮ হাজার কৃষককে ৮ হাজার বিঘা চাষের জন্য ৪৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বীজ সহায়তা প্রনোদনা দেয়া হয়েছে এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের জন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ৮ হাজার কৃষককে ৮ হাজার বিঘা চাষের জন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সারসহ ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। জেলায় ব্রী-৪৭, ব্রী-৬৭, ব্রী-৭২, ব্রী-৭৪, ব্রী-৭৭ ও ব্রী-৭৯ জাতের পাশাপাশি বিনা -৮, বিনা -৯ ও বিনা -১০ জাতের ধানের আবাদ হচ্ছে। এছাড়াও কৃষি গবেষনায় (বিনা) উদ্ভাবিত নতুন জাত বিনা-২৫ প্রদর্শণী চাষীদের মাধ্যমে প্রথমবারের মত চাষ হচ্ছে এবং এর বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এ ধানের উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৮ মেট্রিক টনেরও বেশি।
কৃষকরা প্রচন্ড শীতের মধ্যেও বীজতলা থেকে বীজ উত্তোলন করে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে মাঠে রোপন করছে। এরপূর্বে কৃষকরা মাঠ পরিষ্কার করে চলেছে এবং চাষ দিয়ে স্থানীয় পদ্ধতিতে চাষের ক্ষেত সমান করে বীজ রোপন করছে। লক্ষমাত্রার চেয়েও অধিক পরিমাণে বীজতলা ৩৮৫ হেক্টরে করা হয়েছে। কৃষকরা প্রচন্ড শীত ও কুয়াশার কারণে কৃষকদের বোরো চাষাবাদের গতি কমিয়ে ধীর গতিতে এনে দিয়েছে। তবে শীতের প্রভাব কমলে চাষাবাদের গতি বাড়বে বলে কৃষকরা জানিয়েছে।
শীতের কারণে বীজতলার ক্ষতি হচ্ছে কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিকালে বীজতলা পানিতে ডুবিয়ে রেখে সকালে পানি বের করা অথবা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার মত পরামর্শ প্রদান করে চলেছে। কিন্তু অনেক কৃষকই কৃষি বিভাগের এই পরামর্শ না মেনে তারা তাদের মত চাষাবাদ করছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা স্বল্পসেনা গ্রামের কৃষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া একই উপজেলার গরমগল গ্রামের ছরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন বোরো চাষের জন্য মাঠকে পরিষ্কার করছেন।
বাধন রায়/ইবিটাইমস