রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সেবাদান বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টারঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সেবাদান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে মেডিকেল কলেজ শাখার সকল কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সোমবার(১৫ জানুয়ারী) ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফুল হক মিডিয়াকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত,  গত ৩১ ডিসেম্বর সুন্নতে খৎনা করাতে সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী শিশু আয়ানকে। এ সময় তাকে ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে খৎনা করা হয়। পরে অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরও জ্ঞান না ফিরলে আয়ানকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর রোববার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সোমবার তাকে রূপগঞ্জে দাফন করা হয়।

শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থানায় গত ৯ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন আয়ানের বাবা মো. শামীম আহমেদ। এদিকে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে সোমবার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার(১৫ জানুয়ারী) ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফুল হক মিডিয়াকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরিফুল হক আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আজ সোমবার থেকে সাঁতারকুল ইউনাইটেড হাসপাতাল শাখার সব  কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি।  তবে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ চালু আছে। এছাড়া গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালেরও সব কার্যক্রম চালু আছে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখছি, গুলশান শাখার ইউনাইটেড হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে, যা সঠিক নয়।

এর আগে লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।

রোববার  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে ওই হাসপাতালের লাইসেন্সসহ জরুরি কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, আমরা সাঁতারকুল শাখার সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। জরুরি ও বহিঃবিভাগে কোনো রোগী চিকৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আর হাসপাতালে যে সব রোগী ভর্তি ছিল তারা সবাই সুস্থ হওয়ার পথে ছিল, তাই তাদেরকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।  রোগীদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়নি।

অফিস আদেশে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ান আহমেদের (৫+ বছর) মৃত্যুতে তার বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) নেতৃত্বে ১০ জানুয়ারি হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হয়।

এছাড়া দপ্তরের অনলাইন ডাটাবেজ পর্যালোচনা এবং পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখা যায় যে, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিকট নিবন্ধন/লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য কখনোই অনলাইন আবেদন করেনি। প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রকার আইনানুগ নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স ব্যতিরেকে চিকিৎসাসেবা নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালনা করে আসছে, যা সরকারের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে এ আদেশ জারি করা হলো।

মোঃ সোয়েব মেজবাহউদ্দিন/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »