পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল মৃধা। পুলিশের দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় ছিলেন পটুয়াখালী জেল হাজতে। শুক্রবার রাতে নাজমুলের পিতা মো. মোতালেব হোসেন মৃধা মৃত্যুতে জানাজা ও দাফনের জন্য ৫ ঘন্টার জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্যরোলে মুক্তি দেয় আদালত। সময় সল্পতার জন্য পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে বিকেল ৩ টায় বিশেষ জানাজার আয়োজন করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। তবে জানাজায় অংশ গ্রহনের সময় নাজমুলের ডান্ডবেরী খোলা হয়নি। ফলে ডান্ডাবেরী পরেই পিতার জানাজায় অংশ নেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজমুলের বাবা মোঃ মোতালেব হোসেন মৃধা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মোতালেব হোসেন দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। ছেলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আজ শনিবার বেলা তিনটার দিকে পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে বিশেষ জানাজার আয়োজন করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটায় স্থানীয় সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নাজমুল মৃধার বড় ভাই মো. রাসেল মৃধা জানান, নাজমুল মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহŸায়ক। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী এলাকায় তাঁদের বাড়ির সামনে থেকে নাজমুল মৃধাকে আটক করে পুলিশ। পরে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে এবং শেষ দেখার জন্য আজ বেলা একটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেয় আদালত। জানাজার সময় হাতকড়া খুলে দিলেও পায়ের ডান্ডাবেড়ি খুলে দেয়নি পুলিশ।
রাসেল মৃধা বলেন, ‘আমার ভাই ছাত্রদলের রাজনীতি করার অপরাধে পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় তাঁকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে হলো, এর চেয়ে দুঃখের, এর চেয়ে কষ্টের কী হতে পারে। আমার ভাই বাবার কবরে মাটিও দিয়ে পারল না। প্যারোলের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় শুধু ভাইয়ের জন্য ছোট পরিসরে একটি জানাজা নামাজের আয়োজন করা হয়েছিল। পরে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।’
পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমানের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিছুটিতে আছি, এ বিষয় ওসি তদন্ত বিষয়টি বলতে পারবেন।’
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি(তদন্ত) হুমায়ন কবির বলেন, ‘এটি আমাদের বিষয় না, তাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগার থেকে এখানে নিয়ে আসা হয় এবং জানাজা শেষে তাকে আবার পটুয়াখালীর পুলিশ নিয়ে যায়। আমরা শুধু আমাদের থানা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ডানন্ডাবেরী পরানোর বিষয়টি তারা বলতে পারবে।’
এ বিষয় জানতে চাইলে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয় খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি, কি ধরনের আসামী এবং জেলখানা থেকে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো।
আব্দুস সালাম আরিফ/ইবিটাইমস