আওয়ামী লীগের জয়ে বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ সভানেত্রী শেখ হাসিনার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পরে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা আত্মকলহে লিপ্ত না হতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইবিটাইমস ডেস্কঃ রবিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশনার কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দলের প্রধান শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, সরকার প্রধান হয়েও স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারেন। আজ সবাই তা প্রত্যক্ষ করেছেন। সর্বাত্মক সহযোগিতা করা, ফ্যাসিলিটেড করা, কোঅপারেশন দিয়ে শেখ হাসিনা যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেজন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে তথ্য পেয়েছি তাতে নিশ্চিত বলা যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধিকাংশ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হচ্ছে।’
জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ভোট প্রদানে কোনো ভয়ভীতি বা হস্তক্ষেপ হয়নি। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করবে।’

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ভোট গ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর বলেন, দেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে সিইসি ভোটের হার ২৮ শতাংশের মতো উল্লেখ করে পরে তা সংশোধন করে বলেন এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আরও হয়তো বাড়তে পারে। আবার নাও পারে।

এর আগে বিকাল ৩টার ব্রিফিংয়ে ২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব। অর্থাৎ শেষ এক ঘন্টায় ভোট পড়েছে ১৩ শতাংশ। ভোটের হারের প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেন, এখনো নিশ্চিত করে পার্সেন্টেজের হিসাব বলা যাবে না। অ্যাজ ইট ইজ আমরা যেটা পেয়েছি ২৮ শতাংশের মতো।

পরে সিইসি’র পাশে থাকা সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সিইসিকে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান। তখন সিইসি বলেন, ৪০ শতাংশ, আচ্ছা আচ্ছা। ৪০ শতাংশ তাও কিন্তু সেই ড্যাশবোর্ডে হান্ড্রেট পারসেন্ট আসেনি। ৪০ শতাংশ এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তবে আরও হয়তো বাড়তে পারে। আবার নাও পারে।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইউরো বাংলা টাইমসের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী বিএনপি ও সমমনা প্রায় ৬০টি দল নির্বাচন বর্জন করলেও, অনেক কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় অনেক এলাকায় ভোট গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানাটানা উত্তেজনা ছিল।

অন্যদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বলেন, সাধারণ জনগণ এই নির্বাচন বর্জন করেছে। কেননা এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থকরা আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছে। তিনি নির্বাচন বর্জনের জন্য জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের পাতানো নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনগণ অভূতপূর্ব রায় দিয়েছে। দুই শতাংশের বেশি ভোটার কেন্দ্রে আসেনি। আমাদের ভোট বর্জন সার্থক হয়েছে। জনগণ সরকারের এই ডামি নির্বাচন বর্জন করেছে।

রিজভী আরও বলেন, সরকার ফেলানী হত্যা দিবসে পাতানো নির্বাচন করে ফেলানীর মতোই গণতন্ত্রকে তারকাঁটায় ঝুলিয়েছে। তাদের প্রভুদের খুশি করতে ফেলানী হত্যা দিবসে নির্বাচন করেছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য এই সাজানো নির্বাচন করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নৌকার এজেন্ট ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর এজেন্ট দেখতে পাচ্ছেন না। তাহলে ১৮ শতাংশ ভোটার কোথায় থেকে এলো? এতদিন দেখেছি, ভোটকেন্দ্রে মানুষ আসতো। আজ দেখলাম, যশোরে একটি ভোটকেন্দ্রে বানর ভোট দিতে এসেছে।

বিএনপি নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই নির্বাচন বর্জন করছেন এবং মিডিয়াতে বক্তব্য দিচ্ছেন, নৌকার প্রার্থীরা তাদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছেন। কে কে জয়ী হবে তা সরকার আগেই নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। সরকার নিজেদের মধ্যে ভোট করছে। তবুও, পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য রাতের বেলায় ব্যালটবক্স ভর্তি করে রেখেছে। আবার কোথাও সাত বছরের শিশুও ভোট দিচ্ছে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে না। তারা সবসময় ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে। শিল্পমন্ত্রীর ছেলে জালভোট নিয়ে ধরা পড়েছে। জিএম কাদের তার বক্তব্যে বলেছেন, এই সরকার নিরপেক্ষ ভোট করতে জানে না। তারা নির্বাচনে অনিয়ম করবে বলেই অনলাইন পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »