৩১ ডিসেম্বর রাতে যখন সকলে খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০২৪ বরণে ব্যস্ত,তখন ভিয়েনার কিছু যুবক এক ব্যতিক্রম রাত যাপন করলো আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে
ভিয়েনা ডেস্কঃ রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) নববর্ষের রাতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের বায়তুল মামুর মসজিদে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির একাধিক ইমাম,মুসল্লি ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের যুবকদের নিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির কিছু যুবক এই ব্যতিক্রমী রাত উদযাপন করলো।
নববর্ষের রাতে আল্লাহর জন্য নফল ইবাদত বন্দেগির এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের বায়তুল মামুর মসজিদের সন্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ মহিউদ্দিন মাসুম। এই অনুষ্ঠানে আরও বয়ান পেশ করেছেন কমিউনিটির ইমাম শায়খ আব্দুল মতিন আল আযহারী ও শায়খ সাইদুর রহমান আল আযহারী।
শায়খদের বয়ান জার্মানি ভাষায় অনুবাদ করে শুনান অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির যুবক রেজাউল মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত করতে
সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বায়তুল মামুর মসজিদ ১০ মসজিদের কার্যকরী কমিটির সন্মানিত সদস্যবৃন্দ।
ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের বায়তুল মামুর মসজিদের সন্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ মহিউদ্দিন মাসুম আমাদের অস্ট্রিয়া প্রতিনিধির সাথে এক টেলিফোন সাক্ষাতকারে জানান, এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুবক ছাড়াও ভিয়েনায় বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের যুবক এবং স্থানীয় মুসল্লিসহ প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় রাত সোয়া ছয়টায় এশার নামাজের মাধ্যমে। নামাজের পর বয়ান শুরু করা হয়। বয়ানের পর অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির উপস্থিত শায়খগণ উপস্থিত যুবক ও মুসুল্লিদের নিয়ে অস্ট্রিয়া ও বাংলাদেশ সহ সকল মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করেন। তারপর বায়তুল মামুর মসজিদ ১০ এর পক্ষ
থেকে অতিথিদের রাতের খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।
তারপর রাত সাড়ে নয়টার পর উপস্থিত যুবকদের নিয়ে একটি ইসলাম ভিত্তিক উপস্থাপন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। যুবকদের আল্লাহর বিশিষ্ট চার জন বড় ও বিখ্যাত নবীর নামে চার দলে বিভক্ত করা হয়। যেমন হযরত মুহাম্মদ সা:,হযরত ঈসা আ:,হযরত মুসা আ: ও হযরত ইব্রাহীম আ:। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী দলকে বিশেষ পুরস্কার এবং বাকী তিন দলকে সান্তনা পুরস্কার দেয়া হয়।
তারপর রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ঘুমানোর বিরতি দেয়া হয়। রাত চারটার কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ জামায়াতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া হয় এবং সমগ্র
মুসলিম উম্মার সুখ ও শান্তির জন্য মহান আল্লাহতায়ালার নিকট দোয়া করা হয়। তারপর ফজরের নামাজের পর অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস