চতুর্থ বছরে পা রাখল ইউরো বাংলা টাইমস

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা ইউরো বাংলা টাইমস তার গৌরবোজ্জ্বল অস্তিত্বের তিন বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বছরে পা রাখল

ইবিটাইমস ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া থেকে যৌথভাবে প্রকাশিত বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা ইউরো বাংলা টাইমস এই বিজয়ের মাসে ২০২০ সালের ২১ মডিসেম্বর তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। পত্রিকাটি বর্তমানে পাঠকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে আমাদের পত্রিকার নিয়মিত ও অনিয়মিত সহ পাঠক সংখ্যা দুই লাখের ওপর।

কোনো পত্রিকার প্রারাম্ভ থেকে যারা যুক্ত থাকে, তাদের কাছে পত্রিকার বর্ষপূর্তি এক ভিন্ন ধরনের অনুভূতি নিয়ে আসে। কিছু মানুষের স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতি অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে একদল মানুষ নিরন্তর পরিশ্রম করতে থাকে। পত্রিকায় অভিনবত্ব, ভাষা বা বিষয়ের সাফল্য, বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিকাশ ইত্যাদি পত্রিকাটিকে ইতিবাচকভাবে সচল রাখে।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি এসেছেন। তাঁদের জীবনের নানা ঘটনা সাংবাদিকতার ব্যাপারে আমাদের আগ্রহী করে তোলে। কর্মনিষ্ঠা, একাগ্রতা, সত্য প্রকাশের সৎসাহসকে পুঁজি করে তাঁরা যে ভিত গড়ে দিয়েছেন, সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সবাই যে একই পথের পথিক হয়েছেন, এমন নয়। অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংবাদপত্রও অনেক সময় তার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে, নীতির সঙ্গে আপস করেছে, কখনো কখনো নিজের খারাপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে।

সরকারি অনুষ্ঠানে সরকারি অনুগ্রহপুষ্ট এমন সাংবাদিকদের কারও কারও কথাবার্তাকে নিতান্তই ভাঁড়ামি বলে মনে হয়েছে। নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য আপস একটি বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আপস শুধু সরকারি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নয়, যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ‘ছোট ভাই’ হিসেবে সংবাদপত্রগুলো তাদের লাঠিয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই আপসকামিতা কখনো প্রত্যক্ষ, কখনো পরোক্ষ। বিজ্ঞাপনপ্রাপ্তির জন্য নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়ার ঘটনাও অলক্ষ্য নয়।

পত্রিকা অফিসগুলোয় হাতে ধরে কাজ শেখানোর মানুষও কমে গেছে। ফলে, নবীন সাংবাদিক যাঁরা আসছেন, তাঁদের সামনে দৃষ্টান্তের অভাব রয়েছে। ভুল বাক্য লেখা, সংবাদের গুরুত্ব বিচার করার অক্ষমতা, কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার অভাব দেখা যায়। এই পেশার জন্য কতটা একাগ্রতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং সৃজনশীলতার দরকার হয়, সেটা মনে না রাখলে পেশাটি বারোয়ারি পেশা হয়ে যায়। সাংবাদিকতার বনিয়াদি ধারণাগুলো সাংবাদিক-জীবনে রপ্ত করতে না পারলে সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা জন্মায় না। আমাদের সাংবাদিকতায় এই গর্তটা ক্রমেই বাড়ছে।

সংবাদপত্র প্রতিদিন পাঠকের সামনে হাজির হয়। প্রতিদিন পাঠক তা যাচাই করেন, সুতরাং একদিন ভালো পত্রিকা বের করে পরের দুদিন আলসেমি করে কাটিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাঠকের কাঠগড়ায় এই যে প্রতিদিন দাঁড়াতে হচ্ছে, তার জন্য যে বিশাল প্রস্তুতির দরকার হয়, সেই প্রস্তুতি নেওয়ার দৃঢ়তা দেখানো সহজ কথা নয়। সেই প্রস্তুতি আজকের পত্রিকার আছে।

বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ছাপা পত্রিকার চেয়ে অনলাইন পত্রিকা পাঠকদের সংবাদের চাহিদা মেটাতে বেশ ভালো ভূমিকা রাখছে। আধুনিক স্মার্ট ফোনের সুবিধায় পাঠকরা মুহুর্তের মধ্যেই অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে সমসাময়িক খবরাখবর জানতে পারছে। ইউরো বাংলা টাইমস তার পাঠকদের কাছে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার কাজটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন উপাদান। তথ্য জানার জন্য মানুষ পত্রিকা কিনবে, সেই পত্রিকায় ছাপা হবে বিজ্ঞাপন, সে বিজ্ঞাপন দেখে মানুষ ছুটে যাবে পণ্য কিনতে, পৃথিবী এখন আর সে রকম সহজ জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। বিজ্ঞাপনবিষয়ক জিজ্ঞাসার উত্তরের জন্য ইউটিউব, ফেসবুক হচ্ছে একেবারে প্রাথমিক তথ্যের আধার। ব্যক্তিগত রিভিউতেও আস্থা আছে অনেক মানুষের। এ রকম অবস্থায় কেন একটি নতুন ছাপা পত্রিকা আসবে বাজারে? বর্তমান সময়ে মানুষের চাহিদা মেটাতে অনলাইন পত্রিকাগুলো বেশ ভূমিকা রাখছে।

আমাদের ইউরো বাংলা টাইমসকে গত বছরগুলোতে কয়েকবার প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য আপডেট করা হয়েছে। পত্রিকাটি বাংলা,ইংরেজী এবং জার্মানি এই তিন ভাষায় পড়া যাচ্ছে। ইউরো বাংলা টাইমসে বাংলাদেশ,অস্ট্রিয়া,মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউরোপের একাধিক দেশে তার প্রতিনিধি রয়েছে।

ইউরো বাংলা টাইমসের এই চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে ইউরো বাংলা টাইমসের এডিটোরিয়াল বোর্ড এই পরিবারের সকল সদস্য, পাঠক-পাঠিকা, বিজ্ঞাপনদাতা,প্রযুক্তিগত কলাকৌশলী সহ সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানাচ্ছে আন্তরিক অভিনন্দন।

কবির আহমেদ/এম আর/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »