ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা-ঢাকা নৌরুটে ঘন কুয়াশায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল বুধবার এ কমিটি গঠন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবু ছালেহ কাইয়ুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মাসুদ কামালকে এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে৷ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সদরঘাট ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. এনামুল হক ভুঁইয়া, সদরঘাটের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান ও নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান থানদার।
বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবু ছালেহ কাইয়ুম জানান, বিআইডব্লিউটিএ এর গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে তাদের প্রতিবেদন চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেয়ার পর টিপু-১৪ ও সুরভী-৮ লঞ্চের মধ্যে এমন ভয়াবহ সংঘর্ষ হওয়ার কারণ কি ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, লঞ্চে ভিএইচএফ (অতি উচ্চ কম্পাংক বিশিষ্ট) মেশিন রয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে এক লঞ্চের মাষ্টার অন্য লঞ্চের মাষ্টারকে লঞ্চের গতিপথ জানিয়ে থাকেন। সুরভী-৮ এবং টিপু-১৪ লঞ্চের মাষ্টাররা এই ভিএইচএফ মেশিন সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন কিনা সেটিও তদন্ত শেষে জানা যাবে।
তিনি বলেন, ভিএইচএফ বাদেও লঞ্চে রাডার এবং জিপিএস মেশিন আছে। রাডার মেশিনের মাধ্যমে তড়িচ্চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে চলমান বা স্থীর বস্তুর অবস্থান, দূরত্ব, উচ্চতা, দিক বা দ্রুতি নির্ণয় করা যায় এবং জিপিএস মেশিনের মাধ্যমে ঘন কুয়াশায় নৌযানগুলো যাতে পথ ভুলে অন্য কোনো রুটে না চলে যায় এবং কুয়াশা ভেদ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেজন্য জিপিএস মেশিন ব্যবহার হয়ে থাকে।
এছাড়াও ঘন কুয়াশার মধ্যে নৌযান চালাতে বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ মাষ্টার এবং চালকদের বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে। সদরঘাটে মাইকিং করার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়েছে। এরপরও এসব ঘটনা কিভাবে ঘটে তা তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে। তদন্ত শেষে দোষী মাষ্টার ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ, গত ১১ ডিসেম্বর সোমবার দিনগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর নামক জায়গায় যাত্রীবাহি লঞ্চ টিপু-১৪ ও সুরভী-৮ এর মধ্যে ঘন কুয়াশার কারণে সংঘর্ষ হয়। এতে সোহেল নামে সুরভী লঞ্চের এক যাত্রী মারা যায়। আহত হয় শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী। টিপু-১৪ লঞ্চের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় সুরভী-৮ লঞ্চের বা পাশের অংশ। সুরভী-৮ লঞ্চটি প্রায় তিনশো যাত্রী নিয়ে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং ঢাকা থেকে প্রায় চারশো যাত্রী নিয়ে টিপু-১৪ লঞ্চটি ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সেসময় সুরভী-৮ লঞ্চের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, ঘন কুয়াশার কারনে টিপু-১৪ লঞ্চ রং সাইটে গিয়ে সুরভী-৮ লঞ্চটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সোহেল নামে ওই যাত্রী মারা যায় এবং আহত হয় বেশ কয়েকজন যাত্রী। টিপু লঞ্চের ধাক্কায় সুরভী লঞ্চটির প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
লঞ্চে রাডার মেশিন ব্যবহার সম্পর্কে তিনি জানান, রাডার মেশিন ঘন কুয়াশা ভেদ করে অন্য কোনো নৌযানের গতিপথ কিংবা অবস্থান নির্ণয় করতে পারে না। যার কারনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার।
যদিও ঘটনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিপু-১৪ লঞ্চের মাষ্টার অথবা অন্যকোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে আসছেন।
মনজুর রহমান/ইবিটাইমস