ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: রাতের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয় ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের পরিত্যক্ত ভবনগুলো। স্থানীয় বখাটে তরুণ-যুবকরা রাতের আঁধারে ভবনগুলোতে মাদক সেবন ও জুয়াড় আড্ডা জমায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কোয়ার্টারে থাকা ডাক্তারসহ অন্যান্য স্টাফরা।
নামপ্রকাশে অনইচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন স্টাফ জানান, মাসের পর মাস কোয়ার্টারের পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে রাতের আঁধারে স্থানীয় কিছু বখাটে লোকজন অপরাধমূলক কর্মকাÐ চালাচ্ছে। প্রতিদিন রাত ১০ টার পর থেকেই কোয়ার্টারের দেয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে বহিরাগত বখাটে তরুণ-যুবকরা। তারা সম্মিলিতভাবে জমায় মাদক সেবন ও জুয়াড় আড্ডা। এ আড্ডা ঘিরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও স্টাফরা। এসব বিপদগামী তরুণ-যুবকরা চুরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় হানা দেয় ডাক্তার ও স্টাফদের বাসায়। ইতোমধ্যে ঘটেছে কয়েকটি চুরির ঘটনাও। বহিরাগত এসব তরুণ-যুবকদের আড্ডার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোয়ার্টার এখন অনিরাপদ। এ কারণে অনেক ডাক্তার-স্টাফরা কোয়ার্টারে থাকছেন না। তাই দ্রæত সময়ের মধ্যে এসব বখাটেদের লাগাম টানতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, হাসপাতাল ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে বহিরাগত লোকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাÐ পরিচালনা করছে। যার জন্য কোয়ার্টারে থাকা ডাক্তার ও অন্যান্য স্টাফরা আতঙ্কিত হয়ে আছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা করেছি। তখন এসব বহিরাগতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমি আবারও কথা বলবো।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাহবুব উল আলম জানান, আগে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন জেনেছি, খুব শিগগিরই এসব বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস